• জাতীয়
  • অবশেষে হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত: ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মর্তূজা মজুমদারের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ উদ্ধার!

অবশেষে হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত: ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মর্তূজা মজুমদারের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ উদ্ধার!

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
অবশেষে হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত: ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মর্তূজা মজুমদারের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ উদ্ধার!

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের ডিজিটাল পরিচয় পুনরুদ্ধার; দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে হ্যাকার চক্র।

দেশের স্পর্শকাতর বিচারিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের হ্যাক হওয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের তৎপরতায় অ্যাকাউন্ট দুটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সাইবার বিশেষজ্ঞদের তৎপরতা

বুধবার (১ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট দুটি সংশ্লিষ্ট টিমের হস্তগত হয়। উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ‘Data’ বা তথ্য নষ্ট না হয়। তবে এই ‘Cyber Attack’-এর সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মার্চ। অজ্ঞাত হ্যাকাররা সুকৌশলে বিচারপতির ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। একজন উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার ‘Digital Identity’ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয় প্রশাসন। অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার করে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক ‘Misdeed’ সাধনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২৪ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করা হয়। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, হ্যাকাররা বিচারপতির পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বিটিআরসি ও তদন্ত সংস্থার সমন্বয়

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)। বিচারপতির অ্যাকাউন্টগুলো দ্রুত ‘Lock’ করা এবং পুনরুদ্ধার করার জন্য বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন টিমের বিশেষজ্ঞ এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবশেষে সফলভাবে অ্যাকাউন্টগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে এ ধরনের ‘Social Media Hacking’ একটি বড় ধরনের ‘Cyber Security’ ঝুঁকি। বর্তমানে বিচারপতির অ্যাকাউন্ট দুটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার (Two-Factor Authentication ও অন্যান্য সিকিউরিটি লেয়ার) করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সাইবার হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আপাতত অ্যাকাউন্ট উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও, হ্যাকারদের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Tags: bangladesh news cyber security digital identity cyber attack tribunal chairman hacked account facebook recovery whatsapp hacked justice mortuza shahbagh gd