• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত: ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট বৃষ্টি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রণক্ষেত্র তেল আবিব

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত: ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট বৃষ্টি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রণক্ষেত্র তেল আবিব

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
 মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত: ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট বৃষ্টি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রণক্ষেত্র তেল আবিব

পাসওভার উৎসবের মাঝেই সাইরেনের শব্দে কাঁপল ইহুদি রাষ্ট্র; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিজয়’ দাবির মধ্যেই পালটা সাঁড়াশি আঘাত তেহরানের।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে একযোগে অর্ধশতাধিক রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে পরিচালিত এই ভয়াবহ হামলায় সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

পাসওভারের সকালে আতঙ্কিত ইসরাইল ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ইসরাইলের আকাশ রকেট ও মিসাইল সতর্কবার্তায় মুখরিত হয়ে ওঠে। হিজবুল্লাহর ছোড়া ৫০টিরও বেশি রকেটের মধ্যে একটি সরাসরি সীমান্ত শহর কিরিয়াত শমোনায় আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই হামলা এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে চালানো হয়েছে যখন ইসরাইল জুড়ে ইহুদিদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘পাসওভার’ (Passover)-এর প্রথম দিন উদযাপিত হচ্ছে। রকেট হামলার সাইরেন বেজে ওঠার সাথে সাথে উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে যায় এবং লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের (Shelter Home) খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন।

ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত ড্রোন-মিসাইল অ্যাটাক কেবল লেবানন সীমান্ত নয়, ইরান থেকেও বড় ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছে ইসরাইল। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (IRGC) বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইসরাইলের অভ্যন্তরে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে নজিরবিহীন অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, তারা প্রায় ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র (Heavy Missile) ও ড্রোনের পাশাপাশি ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ‘সমন্বিত প্রতিরোধ অপারেশন’ পরিচালিত হয়েছে এ অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোর সাথে যৌথভাবে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল এইলাত, তেল আবিব এবং বেনি ব্রাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সামরিক ঘাঁটি এবং কমান্ড সেন্টার। ইরানের দাবি, এই হামলায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের প্রাণহানি ও কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি বনাম বাস্তব চিত্র রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই এক নাটকীয় ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যুদ্ধের মূল স্ট্র্যাটেজিক গোল (Strategic Goal) অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।”

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত চার সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের ওপর অত্যন্ত ‘দ্রুত, নির্ণায়ক এবং ব্যাপক’ (Quick, Decisive, and Massive) আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও হিজবুল্লাহর এই পালটা হামলা ট্রাম্পের দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহ ও ইরানের এই যৌথ হামলা মূলত ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome)-কে অকার্যকর করার একটি রণকৌশল হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমিয়ে আনা এবং ইসরাইলি সামরিক আধিপত্য খর্ব করার লক্ষ্যেই এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সামরিক সাফল্যের দাবি এবং অন্যদিকে তেহরানের নজিরবিহীন পালটা হামলা—সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চল এখন এক প্রলয়ংকারী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

Tags: middle east donald trump israel war military news tel aviv irgc strike rocket attack iran missile hezbollah attack lebanon conflict