বিশ্ব রাজনীতিতে চমক দেওয়া যার সহজাত বৈশিষ্ট্য, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার এক নতুন লক্ষ্য স্থির করেছেন। নিজের চিরচেনা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের আদলে এবার তিনি ইরানকে ‘মহান’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তেহরানের প্রতি বছরের পর বছর কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পর ট্রাম্পের এই সুরবদল আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন বার্তা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ এবং এর ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সঠিক নেতৃত্ব এবং সঠিক সমঝোতা সম্ভব হয়, তবে ইরান বিশ্বের অন্যতম সফল ও ‘মহান’ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা তার আগের মেয়াদের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতির বিপরীতে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
সুরবদলের নেপথ্যে কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প সম্ভবত তেহরানের সাথে একটি নতুন এবং বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। তিনি বারবার বলে আসছেন যে, তিনি যুদ্ধ চান না বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী। ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তার কথায়।
তেহরান ও বিশ্বশক্তির প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের পর ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। কেউ কেউ একে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে ট্রাম্পের চিরচেনা ‘ডিল মেকিং’ কৌশল হিসেবে বর্ণনা করছেন।
কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের এই ‘মেক ইরান গ্রেট’ তত্ত্ব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরবর্তী আলোচনার ওপর। যদি দুই দেশ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দশকের অস্থিরতা নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই নতুন কৌশল তার নিজের দলের ভেতরের কট্টরপন্থীরা কীভাবে নেবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।