• রাজনীতি
  • আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন: দফায় দফায় বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট

আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন: দফায় দফায় বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন: দফায় দফায় বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিপরীতমুখী অবস্থানে আটকে গেছে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা; বড় শরিকদের ‘একক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ।

নির্বাচনী ময়দানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেও ‘আসন ভাগাভাগি’ নামক কঠিন বাস্তবতার মুখে হোঁচট খেয়েছে ১১ দলীয় জোট। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে এই রাজনৈতিক মোর্চা। বড় দুই শরিকের মধ্যে ‘একক আধিপত্য’ বিস্তারের চেষ্টা এবং কৌশলগত পার্থক্যের কারণে জোটের অন্দরে এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিনভর কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক চললেও কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। এর আগে সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, মঙ্গলবারই আসন সমঝোতার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পাওয়া যাবে। তবে সেই ডেডলাইন পার হলেও জোটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

আসন ভাগাভাগির জটিল সমীকরণ ও ‘একক সিদ্ধান্ত’

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেষ মুহূর্তে নতুন কয়েকটি ছোট দলের অন্তর্ভুক্তি এবং বড় দুই শরিকের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণেই এই Deadlock বা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের শক্তি প্রদর্শনের লড়াই এখন আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জোটের অভ্যন্তরীণ এই অস্বস্তি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন। জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, "Alliance-এর ভেতর থেকে যদি কোনো একটি পক্ষ এককভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে অন্য শরিকদের মধ্যে সন্দেহ এবং দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।" তিনি আরও জানান, তাদের নিজস্ব Electoral Forum-এর জরিপ অনুযায়ী তারা ১০০ থেকে ১৩০টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে এবং সেই অনুযায়ী একটি ‘সম্মানজনক’ আসন সংখ্যা প্রত্যাশা করছে।

জামায়াতের অবস্থান: ‘সমন্বয় না কি আধিপত্য?’

অন্যদিকে, জোটের বড় শরিক জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন নিজেদের পকেটে রাখতে চায় বলে জানা গেছে। বাকি ১১০-১২০টি আসন অন্য ১০টি শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে জামায়াতের এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য শরিকরা।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াত নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদ অবশ্য বিবাদের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি। তিনি বিষয়টিকে ‘Adjustment Process’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "জোটের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আসনের মধ্যে সব পক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করা একটি চ্যালেঞ্জ। এখানে কোনো অসন্তোষ নেই, বরং প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার কাজ চলছে। আমরা দ্রুতই একটি Comprehensive তালিকা প্রকাশ করতে পারব।"

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি কূটনীতিক ও সংস্থাগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) পর্যবেক্ষক দল এই ১১ দলীয় জোটের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে। জোটটি একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারবে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে অনেকগুলো Political Dynamics।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় দুটি শক্তির মধ্যে Grassroots Strength বা তৃণমূলের শক্তিমত্তা নিয়ে যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে, তা নিরসন করা না গেলে জোটের ঐক্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত শরিকদের এই মান-অভিমান ছাপিয়ে ১১ দলীয় জোট কি পারবে একটি গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত প্রার্থী তালিকা উপহার দিতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।

Tags: jamaat-e-islami islami andolan