• রাজনীতি
  • গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ৭ দলের ‘হাইভোল্টেজ’ বৈঠক, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ৭ দলের ‘হাইভোল্টেজ’ বৈঠক, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ৭ দলের ‘হাইভোল্টেজ’ বৈঠক, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

আন্দালিব রহমান পার্থসহ সাত শীর্ষ নেতার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রুদ্ধদ্বার আলোচনা; রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে গুরুত্বারোপ।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন দেশের সাতটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রোডম্যাপ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যেই এই ‘হাইভোল্টেজ’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দল ও নেতৃবৃন্দ

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সাত দলের মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমজনতার মিয়া মসিউজ্জামান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জনঅধিকার পার্টির ইসমাইল হোসেন সম্রাট এবং নেজামী ইসলাম পার্টির একেএম আশরাফুল হক।

গণফোরামের একাংশের নেতা সুব্রত চৌধুরী এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের হারুন চৌধুরীও নিজ নিজ দলের প্রতিনিধি হিসেবে এই আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বৈঠকে বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে বিরোধী দলগুলোর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাজনৈতিক কৌশল ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন

বৈঠক শেষে নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ‘অ্যালায়েন্স’ বা ঐক্যবদ্ধ মোর্চা গঠনের প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। তারেক রহমান দীর্ঘক্ষণ নেতাদের কথা শোনেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে ‘ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন’ বা গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে ছোট-বড় সব দলের সমন্বয় বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিএনপি নেতৃত্ব।

তারেক রহমানকে ডিআরইউর সম্মাননা

সাত দলের সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পেশাদার সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় এই সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

তারেক রহমান সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্র সংস্কারে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সুস্থ ও পেশাদার সম্পর্ক থাকা অপরিহার্য।

গুলশানের এই বৈঠকগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আন্দালিব রহমান পার্থের মতো বাগ্মী নেতার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই সমন্বয় আগামী দিনের আন্দোলনে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।