• রাজনীতি
  • নিশিরাতের নির্বাচনে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না: তারেক রহমান

নিশিরাতের নির্বাচনে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না: তারেক রহমান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নিশিরাতের নির্বাচনে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না: তারেক রহমান

বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল তথাকথিত নির্বাচন। যেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুবক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি।

এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি জানি ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। নদীভাঙন সমস্যা, কর্মসংস্থান সমস্যা, জেলাগুলোর বিভিন্ন উপজেলায় সেতু, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট—এগুলোর সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলো গত এক যুগে সংস্কার, মেরামত ও তৈরির প্রয়োজন ছিল।

যা বিগত সরকার করেনি। এই সমস্যাগুলো সমাধান হওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হয়নি। কারণ জনগণের ভোটের অধিকার ছিল না। নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল তথাকথিত নির্বাচন।

যেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুবক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি। এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপির পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড চালুর কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। এই দেশের মানুষ, তাদের যে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যে অধিকারের জন্য গত ১৬ বছর গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যে অধিকারের জন্য ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে, সেই অধিকার আগামী মাসের ১২ তারিখে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে ইনশা-আল্লাহ। কী সেই অধিকার? ভোটের অধিকার। কেন এই ভোটের অধিকার দরকার? কারণ আমরা চাই এই দেশের মালিক যে জনগণ, তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। যাতে জনতার ইচ্ছামতো সামনে চলতে পারে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যই ভোটের অধিকার। মানুষের কথা বলার অধিকার, মানুষের ন্যায্য অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে—এ জন্যই দরকার ভোটের অধিকার। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। উপজেলা হাসপাতাল বলুন বা জেলা হাসপাতালই বলুন, যে ওষুধ, চিকিৎসা ও চিকিৎসক দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয়নি। যে কারণে গ্রামগঞ্জের মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায়নি। বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক চায় এবং তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। একজন অভিভাবক চায়, তার সন্তান যেন সেই শিক্ষা পায়, যে শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, বেকার থাকবে না।

এ সময় যুবসমাজের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তরুণরা, যুবকরা কী চায়? তারা চায় দেশে কর্মসংস্থান হবে। দেশে মিল-ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে করে সুন্দরভাবে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে। মানুষ অসুস্থ হতেই পারে, হওয়াটাই স্বাভাবিক, অসুস্থ হলে যেন মানুষ চিকিৎসা পায়। আমরা যদি ময়মনসিংহের কথা বলি, এখানকার কৃষক ভাইদের অনেক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে মাছের পোনা চাষ। এটি আরও বড় করে করা যেত, কিন্তু তা করা হয়নি। এগুলো আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—কিভাবে এই মাছের পোনা চাষ করে দেশ ও বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে জনসভা মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. শরীফুল আলম, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের প্রার্থী আকতারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ-৭ আসনের ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, নান্দাইলের ইয়াসের খান চৌধুরী, গফরগাঁওয়ের আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ভালুকা আসনের ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা) ২৪টি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীরা।

এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আফজাল এইচ খান, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, একেএম মাহাবুবুল আলম, শামীম আজাদ, শহীদুল আমিন খসরু প্রমুখ।

দুপুর আড়াইটায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তারেক রহমান মঞ্চে আসেন বেলা ৪টার দিকে। তবে মঞ্চে ওঠার আগে তিনি সমাবেশস্থলের পাশে উপস্থিত থাকা স্বৈরাচারবিরোধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।

পরে তিনি মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Tags: তারেক রহমান নির্বাচন নিশিরাত সত্যিকার জনপ্রতিনিধি