জাতীয়তাবাদী ফোরামের অভিযোগ ও দাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের চবি শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রফেসর ড. আবদুর রহমান 'অতীতের স্বৈরশাসনের অন্যতম সমর্থক ও আদর্শিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত'। তাদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানেও সেখানে কর্মরত আছেন। ফোরামের মতে, তাঁর এই নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শিক দাপট ও ভিন্নমতের দমন-পীড়নের অপচেষ্টাকে সংহত করবে। অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমানকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, অনুষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অথবা পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হলো এবং তিনি প্রচলিত নিয়মে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
রেজিস্ট্রার ও ডিনের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো 'ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ব্যক্তি' দায়িত্বে থাকুক তা চান না। তবে, তিনি ফ্যাসিবাদী সমর্থক কি না, বা ২০১৬ সালের পর তিনি শিপিং করপোরেশনে আছেন কি না, সে সংক্রান্ত সঠিক তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে নতুন ডিন প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমান বলেন, তিনি শিপিং করপোরেশনে একজন 'ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর' ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দল করেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং বলেন যে তিনি সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মক্ষেত্রেই ছিলেন, কোথাও যাননি।
সাবেক ডিনের মন্তব্য সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি একটি 'ইন্ডিপেন্ডেন্ট পদ'। তিনি ছুটিতে ছিলেন না এবং এখানেই কর্মরত ছিলেন, বছরে একবার-দুবার মিটিংয়ের সময় সেখানে যেতেন। তাঁর মতে, এটি কোনো চাকরি নয় এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি প্রফেসর আবদুর রহমানকে একজন 'নিরপেক্ষ মানুষ' বলে আখ্যায়িত করেন।