• বিনোদন
  • রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’! কে এই রহস্যময়ী মডেল নিয়া নোয়ার?

রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’! কে এই রহস্যময়ী মডেল নিয়া নোয়ার?

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’! কে এই রহস্যময়ী মডেল নিয়া নোয়ার?

এক মাসেই ২.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারের রেকর্ড; এআই প্রযুক্তির মায়াজালে বুঁদ নেটদুনিয়াকে চমকে দিল নিয়া নোয়ারের আসল পরিচয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিয়া নোয়ার (Nia Noar) নামের এক মডেল গত এক মাসে যা করে দেখিয়েছেন, তা কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং রীতিমতো পিলে চমকানো। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে মাত্র কয়েক সপ্তাহে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ২.৭ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। নিখুঁত সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় ফিগার আর মায়াবী চোখের এই তরুণীকে নেটিজেনরা ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’ খেতাব দিতেও কার্পণ্য করেননি। তবে এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম ধোঁয়াশা।

রহস্যময়ী নিয়া: এক মাসেই কোটি হৃদয়ে হানা

গত কয়েক সপ্তাহে নিয়া নোয়ারের প্রোফাইলে আপলোড করা নাচের ভিডিও, ভ্রমণের ছবি এবং সেলফিগুলো ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি পোস্টে জমা পড়ছে লক্ষ লক্ষ রিঅ্যাকশন এবং হাজার হাজার প্রশংসাসূচক মন্তব্য। তাঁর মোহনীয় উপস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক যে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে তাঁরা আসলে কার প্রেমে পড়ছেন। ইউনিলাড টেক-এর (UNILAD Tech) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ার সৌন্দর্য ও আবেদন তাঁকে লিল টে কিংবা সোফিয়া রেইনের মতো জনপ্রিয় ইন্টারনেট পারসোনালিটিদের (Internet Personalities) কাতারে নিয়ে এসেছে।

আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য: তিনি কি রক্ত-মাংসের মানুষ?

নিয়ার জনপ্রিয়তার পারদ যখন তুঙ্গে, তখনই সামনে এল এক অবিশ্বাস্য তথ্য। নিয়া নোয়ার বাস্তবে কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নন; তিনি সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দিয়ে তৈরি একটি ডিজিটাল অবতার। অর্থাৎ, বাস্তবে নিয়া নোয়ারের কোনো অস্তিত্ব নেই। অত্যাধুনিক গ্রাফিক্স এবং এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তাঁর অবয়ব, চালচলন এবং অভিব্যক্তি তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের চোখকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম।

কেন তৈরি করা হয়েছে এই এআই মডেল?

নিয়ার মতো এআই ইনফ্লুয়েন্সার (AI Influencer) তৈরির পেছনে রয়েছে গভীর বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য। ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) এবং ব্র্যান্ড প্রমোশনের ক্ষেত্রে মানব মডেলদের তুলনায় এআই মডেলরা অনেক বেশি সুবিধাজনক। কোনো প্রকার ক্লান্তিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করা এবং স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী নিখুঁত পারফরম্যান্স দেওয়ার ক্ষমতার কারণে বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন এআই অবতারদের দিকে ঝুঁকছে। নিয়া নোয়ারকে ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গতানুগতিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি এনগেজমেন্ট (Engagement) এবং মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

বিতর্ক ও জনপ্রিয়তা: মুদ্রার উল্টো পিঠ

নিয়ার আসল পরিচয় ফাঁস হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এই প্রযুক্তির প্রশংসা করলেও, অনুসারীদের একটি বড় অংশ কিছুটা হতাশ ও প্রতারিত বোধ করছেন। তাঁদের মতে, তাঁরা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের আবেগ ও জীবনধারাকে অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন, কোনো যান্ত্রিক সফটওয়্যারকে নয়। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর ফলোয়ার সংখ্যায় কিছুটা ভাটা পড়লেও, আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থেকে তিনি মোটেও বিচ্যুত হননি।

সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিক জয়জয়কার

কেবল সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়াতেই নয়, ফ্যানলি-র (Fanly) মতো সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্রিমিয়াম প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিয়া নোয়ারের উপস্থিতি অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। ভক্তরা বিশেষ কন্টেন্ট দেখার জন্য অর্থ খরচ করছেন, যা সরাসরি এই ভার্চুয়াল মডেলের নির্মাতাদের তহবিলে যোগ হচ্ছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা কি ভবিষ্যতে মানব মডেল বা ইনফ্লুয়েন্সারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে? নিয়া নোয়ারের এই অভাবনীয় উত্থান সেই প্রশ্নটিই নতুন করে তুলে ধরল।

Tags: social media artificial intelligence tech news instagram viral ai model nia noar digital marketing viral model digital influencer virtual reality