বিশ্বজুড়ে যখন দক্ষিণ কোরীয় সংগীতের জয়জয়কার, ঠিক তখনই কে-পপ (K-pop) ইন্ডাস্ট্রি থেকে ভেসে এল এক বিষাদময় বার্তা। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কোরীয় গায়িকা মো সু-জিন (Mo Su-jin)। গত ২৪ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় মিউজিক ব্যান্ড ‘অ্যাকুস্টিক কোলাবো’র (Acoustic Colabo) এই প্রধান কণ্ঠশিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থানে শোকস্তব্ধ ভক্তকুল এবং সহকর্মীরা।
গোপনীয়তায় শেষকৃত্য সম্পন্ন
গত বুধবার সকালে মো সু-জিনের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে শিল্পীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। শিল্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গায়িকার এজেন্সির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী অত্যন্ত গোপনীয়তা এবং মর্যাদার সাথে শেষকৃত্যের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) রক্ষার্থে আমরা মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করছি না।" একইসঙ্গে সংস্থাটি প্রয়াত শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করে তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
সংগীত ক্যারিয়ার ও সাফল্য
মো সু-জিন তার অনন্য গায়কী এবং শক্তিশালী কণ্ঠের জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ২০২০ সালে তিনি ‘অ্যাকুস্টিক কোলাবো’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। ব্যান্ডের প্রধান গায়িকা (Lead Vocalist) হিসেবে তিনি তাদের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামে (Full Album) কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যা শ্রোতা ও সমালোচকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়।
ব্যান্ডের সাফল্যের পাশাপাশি একক শিল্পী (Solo Artist) হিসেবেও নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই তরুণী। ২০২৫ সালের জুনে তার একক গান ‘ইয়োর ইউনিভার্স’ (Your Universe) মুক্তি পায়। গানটি মিউজিক চার্টে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
স্তব্ধ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি
তরুণ এই প্রতিভার অকালপ্রয়াণে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা তাদের প্রিয় গায়িকার গান এবং স্মৃতি শেয়ার করে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকের মতেই, মো সু-জিন ছিলেন আধুনিক কোরীয় সংগীতের এক উদীয়মান নক্ষত্র, যার কণ্ঠের জাদু আরও দীর্ঘ সময় শোনার প্রত্যাশা ছিল সবার। ২৭ বছর বয়সে তার এই চলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।