ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী নতুন বাসভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানী শেরেবাংলা নগরে বর্তমান গণভবনের পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই এই নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর (Directorate of Architecture) ভবনের খসড়া নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।
গণভবন থেকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রেক্ষাপট পরিবর্তন
গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ভবনটিকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ (July Memorial Museum) হিসেবে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমানে জাদুঘর তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায়, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক নিরাপত্তা সংবলিত বাসভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নতুন বাসভবনের অবস্থান ও নির্মাণ পরিকল্পনা
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনটি গণভবনের পাশেই একটি সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নকশা ও বাজেট বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই ‘Prime Minister’s Residence’ বা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী করতে অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন আবাসস্থল: ‘যমুনা’ নাকি স্পিকারের বাসভবন?
স্থায়ী বাসভবন নির্মাণাধীন অবস্থায় হবু প্রধানমন্ত্রীর জন্য অস্থায়ী আবাসস্থলের দুটি বিকল্প নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পছন্দ হিসেবে রয়েছে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের (Parliament Complex) অভ্যন্তরে স্পিকারের বাসভবনটিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, হবু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দ ও নিরাপত্তার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি কোথায় উঠবেন। স্পিকারের বাসভবনটি নির্বাচিত হলে প্রয়োজনে তার সংলগ্ন ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনটিকেও এই কমপ্লেক্সের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হতে পারে।
মাস্টার প্ল্যান ও স্থাপত্যশৈলী নিয়ে উদ্বেগ
সংসদ ভবন এলাকায় নতুন কোনো বড় স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে লুই আই কানের করা মূল ‘Master Plan’ বা নকশার ব্যত্যয় ঘটবে কি না—তা নিয়ে স্থাপত্য মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন ভবনটি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও এ বিষয়ে স্থাপত্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১২ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পরপরই এই আবাসস্থল ও নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।