• বিনোদন
  • ‘আমি একটা ঘোড়ার মতো, সামনে এগোতেই হবে’—বললেন মিথিলা পালকর

‘আমি একটা ঘোড়ার মতো, সামনে এগোতেই হবে’—বললেন মিথিলা পালকর

অভিনেত্রী মিথিলা পালকর বীর দাস পরিচালিত স্পাই-কমেডি 'হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস' দিয়ে বড় পর্দায় ফিরলেন আট বছর পর। সিনেমার কাজ, চ্যালেঞ্জ এবং থিয়েটার থেকে তাঁর শেখা নিয়ে তিনি কথা বললেন এক সাক্ষাৎকারে।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
‘আমি একটা ঘোড়ার মতো, সামনে এগোতেই হবে’—বললেন মিথিলা পালকর

দীর্ঘ আট বছর পর বড় পর্দার হিন্দি সিনেমায় ফিরেছেন অভিনেত্রী মিথিলা পালকর। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের ভিত তৈরি করলেও, বড় পর্দায় ফিরতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত। বীর দাস পরিচালিত স্পাই-কমেডি 'হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস'-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, কমেডি ঘরানায় কাজ করার চ্যালেঞ্জ এবং তাঁর নিজস্ব অভিনয়-যাত্রা নিয়ে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বললেন এই অভিনেত্রী।

আট বছরের বিরতি: সচেতন সিদ্ধান্ত নয়

দীর্ঘ আট বছর পর বড় পর্দার হিন্দি সিনেমায় ফেরা নিয়ে মিথিলা জানান, এই বিরতি কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল না। তিনি বলেন, “আমার কাছে যে কাজগুলোর প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বেশির ভাগই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি হচ্ছিল।” ডিজিটাল মাধ্যমেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা—এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, “আমি এটা নিয়ে অভিযোগ করছি না। ডিজিটাল মাধ্যমেই আমার জন্ম, এখানেই নিজেকে গড়ে তুলেছি।”

কমেডির চ্যালেঞ্জ এবং বীর দাসের শিক্ষা

'হ্যাপি প্যাটেল'-এর মাধ্যমে মিথিলা প্রথমবার বড় পরিসরের কমেডি সিনেমায় কাজ করলেন। এ অভিজ্ঞতাকে তিনি রোমাঞ্চকর এবং একই সাথে ভীতিকর বলেও জানান। তাঁর মতে, “কমেডি করা খুব কঠিন। একটু বেশি চেষ্টা করলেই সব নষ্ট হয়ে যায়।” পরিচালক বীর দাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বীর সব সময় বলতেন, ফানি হওয়ার চেষ্টা কোরো না, শুধু চরিত্রটার মধ্যে সৎভাবে বাঁচো। চরিত্র যদি নিজের বাস্তবতায় বিশ্বাস করে, দর্শকও করবে।” মিথিলার বিশ্বাস, এ বিশ্বাসযোগ্যতাই ছবির হাস্যরসের মূল শক্তি।

ব্যতিক্রমী সেটের অভিজ্ঞতা

বলিউডে যেখানে ব্যক্তিগত টিম, ভ্যানিটি ভ্যান ও সারাক্ষণ মুঠোফোন ব্যবহারের চল রয়েছে, সেখানে 'হ্যাপি প্যাটেল'-এর সেট ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। মিথিলা বলেন, “সেটে ফোন ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না। আলাদা হেয়ার-মেকআপ টিমও ছিল না।” এই অভিজ্ঞতাকে তিনি থিয়েটারের সঙ্গে তুলনা করেন। “আমরা একসঙ্গে খেয়েছি, গান গেয়েছি, গল্প করেছি। শুটিং সেটটা শুধু কাজের জায়গা ছিল না, যেন একটা নতুন কমিউনিটি,” বলেন তিনি। তিনি মনে করেন, আজকের দিনে মুঠোফোন মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং এই ধরনের সেটে একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই সিনেমা বানানোর আসল আনন্দ নিহিত।

দক্ষিণে নতুন যাত্রা ও তিক্ত অভিজ্ঞতা

২০২৬ সালে একটি তেলেগু ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন যাত্রা শুরু করছেন মিথিলা। এ প্রসঙ্গে ক্যারিয়ারের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসে। একসময় তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি নাকি কোনো চরিত্রের জন্য “খুব বেশি শহুরে।” মিথিলা স্বীকার করেন, তিনি মূলত শহুরে মেয়েদের চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। তবে পুরুষ বনাম নারী বিতর্কে না গিয়ে তিনি বলেন, “আমার যাত্রাটা আমার নিজের মতো। আমি একটা ঘোড়ার মতো, আমাকে শুধু সামনে এগোতে হবে।”

থিয়েটারই আসল শিক্ষক

একাডেমি নয়, থিয়েটারই মিথিলার আসল শিক্ষক। তিনি জানান, তিনি প্রথমে মঞ্চের পেছনে সেট তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের আয়োজনের কাজ করতেন। তাঁর মতে, “থিয়েটার আগে মানুষ হতে শেখায়, তারপর অভিনেতা।” মঞ্চে রিটেক না থাকার কারণে যে শেখাটা হয়, তা ক্যামেরার সামনেও কাজে আসে। প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের সঙ্গে 'কারওয়াঁ' ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি স্মরণ করেন। ইরফান খানের স্বাভাবিক অভিনয় দেখে তিনি অনেক সময় প্রতিক্রিয়া দিতেই ভুলে যেতেন বলে জানান।

'হ্যাপি প্যাটেল' নতুন শুরুর প্রতীক

সবশেষে মিথিলা বলেন, 'হ্যাপি প্যাটেল' শুধু একটি ছবি নয়, বরং নতুন শুরুর প্রতীক। এ ছবির মাধ্যমে তিনি আবার সিনেমা হলে ফিরেছেন এবং কমেডির মতো ঘরানায় নিজেকে পরখ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্যে, “সবচেয়ে বড় কথা, ছবিটা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন আমি অভিনয় করতে এসেছি।”

Tags: bollywood web series interview prothom alo mithila palkar happy patel khatarnak jasoos