বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় ‘এপস্টেইন ফাইল’ (Epstein Files)। প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের শিশু পাচার ও যৌন শোষণের রোমহর্ষক সব তথ্য এখন জনসমক্ষে। এই আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি যখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, তখন সেই একই বিষয়বস্তু ও শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘ওসিডি’ (OCD)-তে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন এই তারকা।
অভিনয়ের ‘পারফেকশন’ নিয়ে জয়ার খুঁতখুঁতে স্বভাব (OCD)
জয়া আহসান মানেই পর্দায় নতুন কোনো চমক। তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক চাপ। জয়া নিজেই স্বীকার করেছেন, অভিনয় নিখুঁত করার এক অদ্ভুত নেশা বা ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ (OCD) কাজ করে তাঁর মধ্যে। অভিনেত্রী বলেন, “নিখুঁত অভিনয় নিয়ে আমার এক ধরনের ওসিডি রয়েছে। সারাক্ষণ মনে হয় সব অভিনয় যেন একই রকম হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যে আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপের (Mental Stress) চূড়ান্তে পৌঁছে যাই। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমি মানুষ, কিন্তু আমার মন সেটা মানতে চায় না।”
পিডোফিলিয়া ও এপস্টেইন ফাইল: শিশুদের প্রতি লালসাকে ‘অসুস্থতা’ আখ্যা জয়ার
আসন্ন থ্রিলার (Thriller) ঘরানার সিনেমা ‘ওসিডি’-তে জয়া এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে শৈশবে যৌন শোষণের শিকার হয়েছিল। এই সংবেদনশীল এবং ‘ডার্ক’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে জয়াকে পিডোফিলিয়া (Pedophilia) নিয়ে গভীর পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রসঙ্গে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জয়া বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি (Mental Disorder)। শিশুদের দেখে যেখানে মানুষের মনে মায়া ও স্নেহ জন্মাবার কথা, সেখানে কিছু মানুষ তাদের দিকে যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাকায়। তারা শিশুর শরীরের ভেতরটা দেখতে চায়—এটা চরম পর্যায়ের অসুস্থতা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমাদের বাংলা সিনেমাতে পিডোফিলিয়া বা শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি।” জয়া মনে করেন, যেখানে শিশু সুরক্ষা জড়িত, সেখানে শিল্পী হিসেবে তাঁদের দায়বদ্ধতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ব্যক্তিগত জীবনে মাতৃত্ব ও দত্তক প্রসঙ্গে সোজাসাপ্টা কথা
সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়েও কথা বলেন জয়া। সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়ে তাঁর চিন্তা কী, এমন প্রশ্নে জয়া বেশ বাস্তববাদী অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আমি চাইলেই কোনো শিশুকে দত্তক নিতে পারি, তার জন্য জন্ম দেওয়ার আবশ্যকতা নেই। কিন্তু বড় বাধা হলো বর্তমানের অনিরাপদ পরিবেশ। একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনতে হলে আগে তার জন্য একটি ‘সিকিউর শেল্টার’ বা নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা জরুরি। অথচ আজকের সমাজ কেবল আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় মগ্ন।”
৬ ফেব্রুয়ারি বড় পর্দায় ‘ওসিডি’র শিহরণ
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে জয়া আহসানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ছবিটির ট্রেলার (Trailer) অবমুক্ত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জয়ার ‘ভয়ংকর’ ও সংবেদনশীল রূপটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শৈশবের ট্রমা এবং সমাজের লুকানো অন্ধকার দিকগুলো এই সিনেমায় কীভাবে উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।