কখন এই অভ্যাস আপনার জন্য আশীর্বাদ?
গরম পানিতে হালকা লবণ মিশিয়ে পান করা সব সময় ক্ষতিকর নয়, বরং কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এটি ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।
গলা ব্যথা ও সর্দি-কাশিতে উপশম: যদি আপনার গলা খুশখুশ করে বা কফ জমে থাকে, তবে এই পানি সাময়িক আরাম দিতে পারে। এটি গলার টিস্যু থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দিয়ে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ (Electrolyte Balance): প্রচণ্ড গরমে কাজ করার পর বা খুব বেশি ঘাম হলে শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে শরীরের ‘ইলেক্ট্রোলাইট’ ভারসাম্য দ্রুত ফিরে আসে।
ডিহাইড্রেশন রোধ: শরীর যখন অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় (Dehydration), তখন কেবল সাধারণ পানি অনেক সময় কোষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। সামান্য লবণ পানিকে শরীরে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য: অনেকের ক্ষেত্রে সকালে এই পানীয়টি অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়িয়ে দিয়ে পেট পরিষ্কার করতে বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।
যাঁদের জন্য এই অভ্যাস হতে পারে ‘বিষ’
লবণ মানেই সোডিয়াম। আর অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অর্গানের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করতে পারে। নিচের সমস্যাগুলো থাকলে এই অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়:
১. উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure): লবণের সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের হাইপারটেনশন আছে, তাঁদের জন্য নিয়মিত লবণ-পানি পান করা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ২. কিডনির সমস্যা (Kidney Disease): আমাদের শরীরের বাড়তি সোডিয়াম ছাঁকনির কাজ করে কিডনি। কিডনি দুর্বল হলে এই বাড়তি লবণের চাপ সে নিতে পারে না, ফলে শরীরে পানি জমতে পারে। ৩. হৃদরোগ (Heart Disease): হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত লবণ হার্টের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ৪. পেটের সমস্যা: নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে এই মিশ্রণ খেলে গ্যাস, বুক জ্বালা বা পেটের ভেতর অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
কতটুকু এবং কীভাবে খাওয়া নিরাপদ?
চিকিৎসকদের মতে, কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। যদি আপনি স্বাস্থ্যগতভাবে ফিট থাকেন এবং এই পানীয়টি খেতে চান, তবে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন:
লবণের পরিমাণ: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মাত্র এক চিমটি লবণই যথেষ্ট। কখনোই আধা চা চামচ বা তার বেশি দেবেন না।
পানের সময়: দিনে একবারের বেশি এটি পান করা ঠিক নয়। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে অথবা ব্যায়ামের পর খেলে।
অভ্যাসে পরিণত করবেন না: প্রতিদিন লবণ-পানি খাওয়ার অভ্যাস করা ঠিক নয়। আপনার শরীর যদি সাধারণ পানিতেই সুস্থ থাকে, তবে কৃত্রিমভাবে সোডিয়াম যোগ করার প্রয়োজন নেই।
পরিশেষে, কোনো ক্রনিক ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে এই জাতীয় ঘরোয়া দাওয়াই শুরু করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সুস্থ থাকতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।