ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আটক হওয়া অভিযুক্ত রিকশাচালকরা হলেন মো. লোকমান আলী (৩২) ও মো. রাশেদ (৩০)। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা হলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা মো. সাকিব (১৮) ও সায়েম উদ্দিন সিয়াম (১৬)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এসে ১নং গেট থেকে রিকশায় ওঠেন। জিরো পয়েন্ট (Zero Point) এলাকায় পৌঁছালে রিকশাচালকের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা (Argument) শুরু হয়। এরপর রিকশাচালক মো. লোকমান আলী তাঁর ভাই রাশেদকে ফোন করে ডেকে আনেন। পরে তারা দর্শনার্থীদের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগের টাকা জোরপূর্বক নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা নারী দর্শনার্থীদের হেনস্তা করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।
নিরাপত্তা কর্মীদের হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তের দাবি
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করলে অভিযুক্ত রিকশাচালকরা পালানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে, অভিযুক্ত রিকশাচালক মো. লোকমান আলী দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছেলেমেয়েরা রেল ক্রসিং এলাকায় 'অশ্লীল কাজ' শুরু করেছিল। তাই তিনি তাদের বন্ধুদের কল করে ডেকে এনেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা কিছু দর্শনার্থী রিকশাচালকের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থা নিচ্ছিলাম।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, নিরাপত্তা দপ্তরের মাধ্যমে অভিযুক্তদের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।