ডিমের পুষ্টিগুণ এবং খাওয়ার উপায়
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিশ্চিত করতে এটি কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
সেদ্ধ ডিম: প্রাকৃতিক পুষ্টি অক্ষুণ্ণ
সকালের নাশতায় অনেকেই সেদ্ধ ডিম পছন্দ করেন। পুষ্টিবিদরা এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ, সেদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত কোনো চর্বি বা উপাদান যোগ করা হয় না, ফলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এতে ক্যালরি কম থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় থাকে। সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি জোগায় এবং এতে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ডিম ভাজা: স্বাদ ও অতিরিক্ত উপাদানের মিশ্রণ
অন্যদিকে, ডিম ভাজার সময় স্বাদের জন্য পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, টমেটো বা মাখনের মতো উপকরণ যোগ করা হয়। এই অতিরিক্ত উপকরণগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য। ভাজা ডিমে ফসফরাসের পরিমাণ সেদ্ধ ডিমের চেয়ে বেশি থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সেদ্ধ ও ভাজা ডিমে প্রায় একই রকম থাকে।
তেলের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ডিম ভাজার ক্ষেত্রে প্রায়শই সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয়। এই তেলে থাকা ট্রান্সফ্যাট হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে, শাকসবজি ও পনির মিশিয়ে ডিম ভাজলে এর পুষ্টিগুণ বাড়ানো সম্ভব। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের (ভিটামিন ও খনিজ) দিক থেকে সেদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিমান প্রায় একই থাকে।
সিদ্ধান্ত: কোনটি বেছে নেবেন?
যেহেতু সেদ্ধ ডিমে কোনো অতিরিক্ত ফ্যাট বা উপাদান যোগ হয় না, তাই এটি প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ বজায় রেখে সবচেয়ে কম ক্যালরিতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। তবে, ডিম ভাজার ক্ষেত্রে যদি স্বাস্থ্যকর তেল যেমন অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হয় এবং সবজি যোগ করা হয়, তবে এটিও একটি পুষ্টিকর বিকল্প হতে পারে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেদ্ধ ডিমই সেরা।