একুশে পদক প্রাপ্তিতে ঘোরের মধ্যে ওয়ারফেজ
বাংলা গানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'একুশে পদক' পেতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ। এই খবর শোনার পর থেকেই যেন ঘোরের মধ্যে রয়েছেন ব্যান্ডটির সব সদস্য। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই জানান ওয়ারফেজের প্রধান ভোকালিস্ট পলাশ নূর। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এই খবরটা শোনার পর থেকে আমরা আসলে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। মানে এই অনুভূতি আমি আসলে ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমরা সবাই এত আনন্দিত যে কী বলব...।”
টিপু ভাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি
অন্যান্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পলাশ নূর বলেন, “আমরা সবাই আসলে ঘোরের মধ্যেই আছি বলতে গেলে। যখন টিপু ভাই (দলনেতা ও ড্রামার) শুনলেন আমরা একুশে পদক পাচ্ছি, তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কান্না করে দিয়েছেন।” ১৯৮৪ সালের ৬ জুন যাত্রা শুরু করেছিল ওয়ারফেজ। শুরুতে ইংরেজি গান কাভার করলেও ফিডব্যাকের মাকসুদুল হকের পরামর্শে তারা বাংলা গানে মন দেয় এবং কালক্রমে বাংলা গানের ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেয়।
দায়বদ্ধতা ও মান বৃদ্ধির শপথ
এই প্রাপ্তি তাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পলাশ নূর দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “হ্যাঁ, সেটা তো বটেই। আগামীতে আমরা যে কাজ করব, সেটার প্রতি আমাদের মনোযোগ আরো বাড়াতে হবে, নিখুঁত করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে কাজের ক্ষেত্রে আমাদের আরো ভাবতে হবে। আরও পরিশীলিত কাজ করতে হবে। বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও বেড়ে গেল।”
ওয়ারফেজ নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাবে
এমন সম্মাননা পাওয়ার পর ব্যান্ডের কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, উত্তরে পলাশ নূর জানান, “না, ওয়ারফেজ তার মতোই থাকবে, নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। মানের ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে হয়তো নতুন করে ভাবতে হবে—এই যা।”
শুরুর দিনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই অর্জনের পেছনে যারা আছেন, তাদের কথা স্মরণ করে পলাশ নূর ব্যক্তিগতভাবে ওয়ারফেজের শুরু থেকে যারা ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “সঞ্জয় ভাই, বাবনা ভাই, টিপু ভাই, কামাল ভাইসহ যারাই ছিলেন এই প্রাপ্তির পেছনে তাদেরই অবদান।” পাশাপাশি, এতদিনের শ্রোতাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানান।
উদযাপন: ঘোরের কাটলে দাওয়াত
উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পলাশ নূর হাসতে হাসতে বলেন, “না, এখনই না। আমরা এই খবর শুনে এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছি। ঘোর থেকে বের হই আগে। উদযাপন করলে আপনারাও দাওয়াত পাবেন।”