** কিডনির বার্ধক্যের রহস্য উন্মোচন**
মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিডনির (Kidney) কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের একটি সাধারণ ওষুধ কিডনির এই বার্ধক্যজনিত ক্ষয় (Age-related Degeneration) রোধে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী 'কিডনি ইন্টারন্যাশনাল' (Kidney International)-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি ১৩ জন বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক দল পরিচালনা করেছে।
গবেষণার 'টাইম মেশিন': কিলিশ মাছ
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় বিশেষ সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করেছেন মাত্র কয়েক মাস আয়ুষ্কালের এক অদ্ভুত মাছ—'আফ্রিকান টারকোয়াইজ কিলিশ' (African Turquoise Killifish)।
অনন্য বৈশিষ্ট্য: এই মাছের পুরো জীবনচক্র শেষ হয় মাত্র চার থেকে ছয় মাসে। মানুষের কিডনি কয়েক দশক ধরে যেভাবে বুড়িয়ে যায়, এই মাছের কিডনি ঠিক একই প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক সপ্তাহে বৃদ্ধ হয়। ফলে মানুষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণার জন্য এটি এক অনন্য 'টাইম মেশিন' হিসেবে কাজ করে।
মানুষের প্রতিচ্ছবি: গবেষকরা দেখেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মাছের কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং ফিল্টার করার ক্ষমতা কমে, যা মানুষের কিডনি রোগের হুবহু প্রতিফলন।
ওষুধের কার্যকারিতা: SGLT2 Inhibitor-এর বহুমুখী ভূমিকা
গবেষণায় মূলত 'এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর' (SGLT2 inhibitors) নামক এক শ্রেণীর ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ওষুধটি সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে চিনি কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, এর গুণাগুণ কেবল চিনি কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
যে মাছগুলোকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাদের কিডনি বার্ধক্যেও সুস্থ ছিল। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. রক্তনালী রক্ষা: ওষুধটি কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালী বা ক্যাপিলারি (Capillary) নষ্ট হওয়া রোধ করে। ২. শক্তি উৎপাদন: এটি বৃদ্ধ বয়সে কিডনির কোষগুলোর শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে (Energy Production) সচল রাখে। ৩. প্রদাহ রোধ: এটি কিডনির ভেতরে প্রদাহ বা 'ইনফ্ল্যামেশন' (Inflammation) কমিয়ে কোষের জিনগত কাঠামোকে (Genetic Structure) তরুণ মাছের মতো ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বৈপ্লবিক সম্ভাবনা: দীর্ঘায়ু ও কিডনি মেরামত
দ্রুত ফলাফল: কিলিশ মাছের দ্রুত আয়ুষ্কালের কারণে বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক মাসে মানুষের কয়েক দশকের বার্ধক্যের ওপর ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
ভবিষ্যৎ: গবেষকরা এখন পরীক্ষা করছেন, কিডনি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে এই ওষুধ দিয়ে তা পুনরায় মেরামত করা সম্ভব কি না। এই গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে মানুষের কিডনি অকেজো হওয়া রোধে এবং দীর্ঘায়ু (Longevity) অর্জনে এক নতুন বিপ্লব আসতে পারে।