• ব্যবসায়
  • চট্টগ্রামে বন্দর অচলাবস্থা: হাজার কোটি টাকা ছাড়াল ক্ষতি, ঝুঁকির মুখে রপ্তানি খাত

চট্টগ্রামে বন্দর অচলাবস্থা: হাজার কোটি টাকা ছাড়াল ক্ষতি, ঝুঁকির মুখে রপ্তানি খাত

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে টানা কর্মবিরতি; আটকে আছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য। জাহাজ অলস বসে থাকায় প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রতিদিন ২০-২২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রামে বন্দর অচলাবস্থা: হাজার কোটি টাকা ছাড়াল ক্ষতি, ঝুঁকির মুখে রপ্তানি খাত

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে টানা কর্মবিরতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই অচলাবস্থার ফলে বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় প্রায় ১৩ হাজার টিইইউস (TEUs) রপ্তানি কনটেইনার আটকে আছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

ক্ষতির বহুমাত্রিক চিত্র

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কনটেইনারে পণ্য রপ্তানি হয় এবং প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস করা হয়। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির কারণে বন্দর চত্বর, জেটিতে নোঙর করা জাহাজ এবং ২১টি বেসরকারি ডিপোতে আটকে পড়েছে প্রায় ১৩ হাজার টিইইউস রপ্তানি কনটেইনার। এসব কনটেইনারে থাকা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ে তীব্র ধস

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বন্দরটির দৈনিক গড় আয় ছিল প্রায় ১৫ কোটি টাকা। একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বছরে গড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে, যার দৈনিক গড় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। টানা কর্মবিরতির কারণে বন্দর ও কাস্টমসের রাজস্ব আদায় ৭০ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন খাতে সরাসরি প্রভাব

অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ডিপো ও পরিবহন খাতে। জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় শিপিং এজেন্টদের কার্যক্রম কমে গেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। জাহাজ অলস বসে থাকায় প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের কার্যক্রম কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি টাকা আয় করা বেসরকারি ডিপোগুলোর কার্যক্রম নেমে এসেছে প্রায় ৯০ শতাংশে।

তৈরি পোশাক শিল্পের অশনি সংকেত

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাত। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা মূল্যছাড় দাবি করতে পারেন, এমনকি ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কাও রয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এম এ সালাম বলেন, “টানা পাঁচ দিনের কর্মসূচি আমাদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে। প্রতিদিনের ক্ষতি ছাড়িয়ে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।”

বন্দরে কনটেইনার জট

বন্দর জেটিতে ও ডিপোগুলোয় কনটেইনার জট ক্রমেই বাড়ছে। নতুন জাহাজ নোঙর করতে না পারায় সাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে। এ অচলাবস্থা দূর করতে সরকার থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

Tags: bangladesh economy chittagong port dp world nct work stoppage garment industry export loss container congestion