পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা আসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে রোজার কেনাকাটা শুরু করেছেন ভোক্তারা। আর এই কেনাকাটার শুরুতেই প্রধান রোজার পণ্য খেজুরের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যদিও আমদানিকারকরা বলছেন, খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
দাম বাড়ার কারণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ
খেজুরের দাম বাড়ার পেছনে স্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে অন্যান্যবারের মতো আমদানি শুল্কের চাপ না থাকা সত্ত্বেও বাজারের এই অস্থিরতায় ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকারি বিক্রেতারা খুচরা বিক্রেতাদের, আবার খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম বাড়েনি এবং বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। সরবরাহেও কোনো সংকট নেই। খুচরা বাজারে কেন দাম বাড়ল, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।” অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন যে, পাইকারি বাজার থেকে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, ফলে ভোক্তাদের কাছেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরকারের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ
রমজান মাসে সাধারণত বছরব্যাপী চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ খেজুর বিক্রি হয়। বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার গত ডিসেম্বরেই খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে দেয়। কিন্তু এই উদ্যোগ সত্ত্বেও বর্তমানে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় ভোক্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
খেজুরের বর্তমান বাজার দর
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন প্রকার খেজুরের দাম নিম্নরূপ:
- জাহিদী খেজুর: সর্বনিম্ন দামের এই খেজুরটি এখন ২৮০ টাকা (আগে ছিল ২৫০ টাকা)।
- বরই খেজুর: ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।
- দাবাস: ৫০০ টাকা।
- কালমি: ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
- সুক্কারি: ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
- মাবরুম: ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
- মরিয়ম: ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা।
- মেডজুল: ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক ফল বিক্রেতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যান্য ফলের দামও চড়া
খেজুরের পাশাপাশি রোজার সময় ইফতারের জন্য অন্যান্য ফলের চাহিদাও বাড়ে। গত এক মাসের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, আনার এবং কমলার দামও প্রতি কেজিতে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।