বর্তমান সময়ে খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার’ (Non-alcoholic Fatty Liver) আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি শুরুতে তেমন উপসর্গ না দেখালেও, সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ভারতীয়র কোলেস্টেরল লেভেল অস্বাভাবিক, যা সরাসরি লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক ‘ডায়েট’ (Diet) এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার কুপোকাত করতে ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের পরিচিত কিছু সব্জি। বিশেষ করে তিনটি সব্জি লিভারের চর্বি গলাতে এবং টক্সিন দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
১. লাউ: লিভারের প্রাকৃতিক ‘ডিটক্স’ এজেন্ট
ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য লাউ হতে পারে পরম বন্ধু। লাউয়ের মধ্যে জলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং শীতলতা প্রদান করতে সাহায্য করে। এই সব্জিটি শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না এবং লিভারে জমে থাকা ক্ষতিকারক ‘টক্সিন’ (Toxin) বের করে দিতে অত্যন্ত কার্যকর।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম লাউ ডায়েটে রাখা জরুরি। তবে সবথেকে ভালো ফল পেতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস টাটকা লাউয়ের রস পান করা যেতে পারে। এটি কেবল লিভারের মেদ কমায় না, পাশাপাশি ওজন কমাতেও (Weight Loss) দারুণ সহায়তা করে।
২. কপিজাতীয় সব্জি: কোষ পুনর্গঠনের চাবিকাঠি
ফুলকপি, ব্রকোলি এবং বাঁধাকপির মতো ‘ক্রুসিফেরাস’ (Cruciferous) সব্জিগুলো লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করতে অপরিহার্য। এই ধরনের সব্জিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ফাইবার এবং বিশেষ কিছু জৈব যৌগ, যা শরীরে প্রদাহ বা ‘Inflammation’ কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে এই সব্জিগুলোতে থাকা ‘সালফোরাফেন’ (Sulforaphane) নামক একটি শক্তিশালী উপাদান লিভারের কোষগুলোকে পুনর্গঠন করতে এবং নতুন কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়। নিয়মিত কপিজাতীয় সব্জি খেলে লিভারের চর্বি দ্রুত পুড়তে শুরু করে এবং শরীরের সার্বিক বিপাকক্রিয়া (Metabolism) উন্নত হয়।
৩. বিটরুট: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউজ
যাঁরা ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক স্তরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য বিটরুট বা বিট একটি ‘সুপারফুড’ (Superfood) হিসেবে কাজ করে। বিটের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন এবং ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ (Antioxidant), যা লিভারের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ প্রতিরোধ করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে রক্ত পরিষ্কার করতেও সহায়তা করে।
গবেষণা বলছে, বিট নিয়মিত খেলে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিনের স্যালাডে বিট রাখা অথবা সকালে বিটরুট জুস পান করা লিভার ‘ডিটক্স’ করার সবচেয়ে সহজ উপায়। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর পাশাপাশি যকৃতের চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়।
সুস্থ লিভারের জন্য শেষ কথা
চিকিৎসকদের মতে, কেবল সব্জি খেলেই হবে না, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত চিনি, তৈলাক্ত খাবার এবং প্রসেসড ফুড বর্জন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত জল পানের পাশাপাশি এই ৩টি সব্জিকে ডায়েটে প্রাধান্য দিলে লিভারের চর্বি কুপোকাত হবে অতি দ্রুত। মনে রাখবেন, সচেতনতাই লিভার সুস্থ রাখার প্রধান মন্ত্র।