পুণ্যভূমি মক্কায় আল্লাহর মেহমান হিসেবে গমনের অপেক্ষায় থাকা লাখো মানুষের জন্য বিশেষ ঘোষণা দিল সৌদি আরব। চলতি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে হজের ভিসা (Visa Issuance) কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পরিকল্পিত হজ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সৌদি সরকারের পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বা 'অ্যাকশন ক্যালেন্ডার'-এর অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হজযাত্রীদের সেবাপ্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা ও দফতরের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং নিখুঁত করতেই এই আগাম উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাজিরা সৌদিতে পদার্পণের আগেই যেন তাদের আবাসন, ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এ বছর অনেক আগেভাগে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবার সমন্বয় ২০২৬ সালের হজের জন্য সৌদি আরব যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে, তার শুরু হয়েছিল গত বছরের ৮ জুন থেকেই। এই প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক মাসার’ (Nusuk Masar)। এই আধুনিক ইন্টারফেসের মাধ্যমেই পুণ্যার্থীরা পবিত্র মক্কা ও মদিনার তাঁবু এবং আবাসন সংক্রান্ত সব তথ্য সহজেই পাচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের হজ অফিসগুলোতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও নথি সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে তারা হাজিদের জন্য 'প্যাকেজ বুকিং' এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে পারেন।
মার্চের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের ভিসা প্রদানের যাবতীয় প্রক্রিয়া আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব দেশের হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা ও তাদের আগমনের তথ্য সৌদি আরবের সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে ২০২৬ সালের প্রথম দফার হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এর মাধ্যমেই শুরু হবে হজের চূড়ান্ত পর্যায়ের মহাযজ্ঞ।
নিবন্ধনের বর্তমান চিত্র এবারের হজের জন্য প্রস্তুতির ব্যাপকতা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ হজযাত্রী নিবন্ধনের কাজ শেষ করেছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার হাজি কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি প্যাকেজ বুকিং (Package Booking) সম্পন্ন করেছেন, যা হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি বড় উদাহরণ।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিবৃতিতে বিশ্বের সব হজবিষয়ক দফতর ও সেবাপ্রদানকারী সংস্থাকে অনুমোদিত সময়সূচি পুরোপুরি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং মর্যাদাপূর্ণ হজ ব্যবস্থাপনা উপহার দেওয়াই সৌদি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।