বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় আমেরিকান রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’ (3 Doors Down)-এর প্রধান গায়ক ও ফ্রন্টম্যান ব্র্যাড আর্নল্ড। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি শিল্পীর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন।
ঘুমের মধ্যেই চিরবিদায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্র্যাড আর্নল্ড। গায়কের নিজস্ব ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’-এর ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা তাদের প্রিয় ভাই ও ব্যান্ডমেটের বিদায়ের সংবাদটি শেয়ার করছেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান রক সংগীতের ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।
ক্যান্সারের সঙ্গে অসম লড়াই বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্র্যাড আর্নল্ড দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ক্যান্সারের (Kidney Cancer) চতুর্থ পর্যায়ে ছিলেন। জীবনঘাতী এই রোগটি শেষ পর্যায়ে তাঁর ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়েছিল। উন্নত চিকিৎসা ও অদম্য মানসিক শক্তি নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ক্যানসার মেটাস্ট্যাসিস পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছিল।
মিসিসিপি থেকে বিশ্বমঞ্চ: এক বিস্ময়কর উত্থান ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে জন্মগ্রহণ করেন ব্র্যাড আর্নল্ড। সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল সহজাত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন তিনি হাই স্কুলের ছাত্র, তখনই তিনি লিখেছিলেন তাঁর ব্যান্ডের কালজয়ী গান ‘ক্রিপ্টোনাইট’ (Kryptonite)। একজন ড্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে তাঁর কণ্ঠশৈলীই তাঁকে ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
রক সংগীতের স্বর্ণযুগে ‘থ্রি ডোরস ডাউন’ ২০০০ সালে মুক্তি পায় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’-এর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ (The Better Life)। এই একটি অ্যালবামই রাতারাতি গ্লোবাল মিউজিক সিন (Global Music Scene) বদলে দেয়। অ্যালবামটি সেই বছরের সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবামের তালিকায় ১১তম স্থান দখল করে এবং মাল্টি-প্ল্যাটিনাম (Multi-platinum) স্বীকৃতি পায়। ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হোয়েন আই অ্যাম গোন’ এবং বিশেষ করে ‘হেয়ার উইদাউট ইউ’ (Here Without You)—গানগুলো বিলবোর্ড চার্টে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল মাসের পর মাস। বিশেষ করে বিরহী হৃদয়ের অন্যতম সেরা ব্যালাড হিসেবে ‘হেয়ার উইদাউট ইউ’ আজো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
কালজয়ী এক কণ্ঠের নীরবতা ব্র্যাড আর্নল্ডের মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমসাময়িক মিউজিশিয়ান ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ, অসাধারণ স্টেজ প্রেজেন্স (Stage Presence) এবং গানের লিরিক্সের মাধ্যমে মানুষের আবেগ ছোঁয়ার ক্ষমতা তাঁকে কয়েক প্রজন্মের কাছে অমর করে রাখবে। ‘থ্রি ডোরস ডাউন’-এর প্রধান স্থপতি হিসেবে তিনি যে উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি (Legacy) রেখে গেলেন, তা রক সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।