দেশের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে (Aviation Industry) জ্বালানি ব্যয়ের নতুন সমীকরণ নিয়ে এল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC)। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের (Jet Fuel) দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিইআরসির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে দামের পার্থক্য বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে ব্যবহারের জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ১২ পয়সায়। তবে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। সেখানে জেট ফুয়েলের দাম আগের মতোই লিটারপ্রতি ৬২ ইউএস সেন্ট (62 US Cent) অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন এই মূল্যতালিকা রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকেই এয়ারলাইন্সগুলো নতুন দরে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও গণশুনানি এই মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুযায়ী এই সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (POCL) দেওয়া প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিইআরসি জানিয়েছে, দাম পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে গণশুনানি (Public Hearing) গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর প্রস্তাবিত তথ্যাদি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে এই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এভিয়েশন খাতে প্রভাব জেট ফুয়েলের দামের এই সামান্য বৃদ্ধি দেশের ডমেস্টিক রুটে (Domestic Route) বিমান ভাড়ার ওপর কোনো বড় প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯ পয়সার এই বৃদ্ধি খুব বেশি না হলেও এয়ারলাইন্সগুলোর অপারেশনাল কস্ট (Operational Cost) ব্যবস্থাপনায় এটি প্রভাব ফেলে। সাধারণত জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বা কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে যাত্রীদের টিকিট মূল্যের ওপর। তবে আন্তর্জাতিক রুটে দাম না বাড়ায় বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিইআরসি প্রতি মাসেই এই ধরনের মূল্য সমন্বয় করে থাকে, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।