• আন্তর্জাতিক
  • পশ্চিম তীরের পূর্ণ দখল কি সময়ের অপেক্ষা? ইসরাইলি মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত প্রশাসনিক পরিবর্তনের অনুমোদন

পশ্চিম তীরের পূর্ণ দখল কি সময়ের অপেক্ষা? ইসরাইলি মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত প্রশাসনিক পরিবর্তনের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পশ্চিম তীরের পূর্ণ দখল কি সময়ের অপেক্ষা? ইসরাইলি মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত প্রশাসনিক পরিবর্তনের অনুমোদন

ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাস সহজতর করা এবং স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা খর্বের এই সিদ্ধান্তকে ‘গোপন সংযুক্তিকরণ’ আখ্যা দিয়ে উত্তাল বিশ্ব কূটনীতি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের (West Bank) ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার খর্ব করতে একগুচ্ছ কঠোর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা (Security Cabinet)। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন ভূমি ইহুদি বসতকারীদের (Settlers) কাছে হস্তান্তর করা যেমন সহজ হবে, তেমনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে ‘ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন’ বা ‘গোপন সংযুক্তিকরণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও প্রশাসনিক চক্রান্ত ইসরাইলি মন্ত্রিসভার নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ভূমি নিবন্ধন বা Land Registration প্রক্রিয়া এখন থেকে আরও উন্মুক্ত করা হবে। এর ফলে ইসরাইলি বসতকারীরা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে ফিলিস্তিনিদের থেকে জমি কেনা বা লিজ নেওয়া সহজতর করতে পারবে। একইসঙ্গে, এতদিন যেসব এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল, সেখানে ইসরাইলি সামরিক ও সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (Civil Administration) কর্তৃত্ব বাড়ানোর পথ সুগম করা হয়েছে। একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সুনামি: প্রতিবাদে উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল ইসরাইলের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক এবং অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষকে দখলদারদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ বা Resistance গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে যৌথ অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর। দেশগুলোর দাবি, এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় ‘ভুল পথে আরও এক ধাপ’ বলে মন্তব্য করেছে।

মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা: সংঘাত ও মানবিক সংকট মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ছায়া ইতিমধ্যেই পশ্চিম তীরের রাজপথে দৃশ্যমান। হেবরন (Hebron) এবং মাসাফের ইয়াত্তাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে দিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বা ‘Two-State Solution’-এর সম্ভাবনাকে চিরতরে সমাহিত করা।

গাজা ও লেবানন ফ্রন্টের প্রভাব পশ্চিম তীরে যখন নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তখন গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান (Military Operation) অব্যাহত রয়েছে। সেখানে আকাশপথ ও স্থল হামলায় বেসামরিক নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকট (Humanitarian Crisis) তৈরি করেছে। পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের (Regional War) আশঙ্কাকে ঘনীভূত করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, ইসরাইল যদি তার এই সম্প্রসারণবাদী নীতি থেকে সরে না আসে, তবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে উঠবে।

Tags: middle east international law human rights west bank security cabinet israel cabinet palestinian land illegal settlement land registration