পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য বিচারবিভাগীয় বড় সিদ্ধান্ত এল। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ইমরান খানের সঙ্গে তার আইনজীবীদের দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of Pakistan)। এর আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট একই ধরনের নির্দেশনা দিলেও কারা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। এবার স্বয়ং শীর্ষ আদালত এই হস্তক্ষেপ করায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ ও ‘অ্যামিকাস কিউরি’ নিয়োগ ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির (Corruption) একাধিক মামলা এবং সাজা কার্যকর থাকলেও তার মৌলিক অধিকার ও আইনি পরামর্শ পাওয়ার অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি এবং বিচারপতি শহীদ বিলাল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ পিটিআই-এর করা এক আবেদনের শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। পিটিআইয়ের আইনজীবী সালমান সফদরকে এই মামলার ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (Amicus Curiae) বা আদালতের বন্ধু হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সালমান সফদর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে (Adiala Jail) গিয়ে সরাসরি ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তার শারীরিক অবস্থার বিশদ খোঁজ নেবেন। এই সাক্ষাতের পর তাকে পাক শীর্ষ আদালতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
উপেক্ষিত হাইকোর্টের নির্দেশ ও পরিবারের উদ্বেগ ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত বছরের ২৪ মার্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, সপ্তাহে দু’দিন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তবে ইমরানের বোন আলিমা খানের দাবি, হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে জেল প্রশাসন।
আলিমা খান অভিযোগ করেছেন, আদিয়ালা জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট জেনেশুনেই আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করছেন। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে একটি আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের সদস্যদের শঙ্কা, উপযুক্ত চিকিৎসা ও একাকী কারাবাসের ফলে ইমরানের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হতে পারে।
বন্দিজীবন ও রাজনৈতিক সমীকরণ ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা মামলাসহ সাইফার ও আল-কাদির ট্রাস্টের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান। কোনো কোনো মামলায় সাজা ঘোষিত হলেও পিটিআই দাবি করে আসছে, এই বিচার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও ইমরান খানের ‘ফেয়ার ট্রায়াল’ (Fair Trial) বা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে ইমরানের আইনজীবীরা এখন তার আইনি প্রতিরক্ষা (Legal Defense) আরও জোরালো করার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে একজন ‘অ্যামিকাস কিউরি’র মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন আসায় কারাগারের ভেতর তার জীবনযাপন নিয়ে অস্পষ্টতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশ ইমরান সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।