• আন্তর্জাতিক
  • গিনির রাজধানীতে রণক্ষেত্র: কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে তীব্র গোলাগুলি, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ব্যাপক সাঁজোয়া যান মোতায়েন

গিনির রাজধানীতে রণক্ষেত্র: কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে তীব্র গোলাগুলি, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ব্যাপক সাঁজোয়া যান মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গিনির রাজধানীতে রণক্ষেত্র: কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে তীব্র গোলাগুলি, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ব্যাপক সাঁজোয়া যান মোতায়েন

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কনাক্রিতে মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর প্রশাসনিক এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি; কারাগারের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কনাক্রিতে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় কারাগারের (Central Prison) কাছে ভারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনার পরপরই গিনি সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও এএফপি-র প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সকাল থেকেই কনাক্রিতে আতঙ্ক প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে কনাক্রির প্রশাসনিক জেলা কালুম-এ (Kaloum) তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এই এলাকাটি গিনির রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন অবস্থিত। সকাল ৯টার ঠিক আগে শুরু হওয়া এই গোলাগুলি বিরতিহীনভাবে প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে।

হিসাবরক্ষক থিয়েরনো বালদে নামক এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, “আমি দ্রুতগতিতে একাধিক সামরিক যান ছুটে যাওয়ার শব্দ শুনি। জানালার কাছে যেতেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের (Automatic Weapons) মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।” অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুরামানে দুকুরে জানান, গুলির শব্দ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে যে যেদিকে পেরেছে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন ঘটনার পরপরই গিনির বিশেষ বাহিনী (Special Forces) ও পুলিশ সদস্যরা কারাগারের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো ‘ব্লক’ (Block) করে দেন। কালুম এলাকায় মেশিনগান বসানো একাধিক সাঁজোয়া যান (Armored Vehicle) এবং সামরিক পিকআপ ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অন্তত তিনটি সাঁজোয়া যান অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সেখান থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যেতে দেখা গেলেও ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অতীতের জেল ভাঙার স্মৃতি ও বর্তমান উদ্বেগ গিনির এই কেন্দ্রীয় কারাগারটি ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ২০২৩ সালে এক কমান্ডো অভিযানে এই কারাগার ভেঙে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসা দাদিস কামারাকে (Moussa Dadis Camara) মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যে ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হন। আজকের এই গোলাগুলির পেছনেও কোনো ‘জেল ভাঙার’ (Prison Break) পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

কারাগারের পাশের এক বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আপাতত গুলির শব্দ থেমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও, এই স্বস্তি কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা কেউ জানে না।”

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট গোলাগুলির প্রায় কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও গিনি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত কিংবা এটি কোনো সামরিক অভ্যুত্থানের (Military Coup) চেষ্টা কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। পশ্চিম আফ্রিকার এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটায় গিনির বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Tags: west africa military alert guinea news conakry gunfire central prison kaloum district special forces prison break