• আন্তর্জাতিক
  • অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট: সিডনিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, হার্জোগের সফর ঘিরে রণক্ষেত্র সিডনি-মেলবোর্ন

অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট: সিডনিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, হার্জোগের সফর ঘিরে রণক্ষেত্র সিডনি-মেলবোর্ন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট: সিডনিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, হার্জোগের সফর ঘিরে রণক্ষেত্র সিডনি-মেলবোর্ন

গাজায় গণহত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে হার্জোগের আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি; মরিচের স্প্রে ও কাঁদানে গ্যাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা পুলিশের, গ্রেপ্তার একাধিক।

অস্ট্রেলিয়ায় চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই সিডনি, মেলবোর্ন এবং ক্যানবেরার রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ মরিচের স্প্রে (Capsicum Spray) এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে সিডনির রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।

সিডনিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ স্থানীয় সময় সোমবার সকালে হার্জোগের সফর শুরু হতেই সিডনির টাউন হল এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা টাউন হল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্ট পর্যন্ত প্রতিবাদী পদযাত্রা (Protest March) করতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এর আগে আদালত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ’-এর আইনি চ্যালেঞ্জ বাতিল করে দিয়ে বিক্ষোভের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তা সত্ত্বেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে শক্তি প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

অ্যামনেস্টি ও ইহুদি কাউন্সিলের কঠোর সমালোচনা হার্জোগের এই সফরকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মেলবোর্ন ও ক্যানবেরাতেও বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ‘জুইশ কাউন্সিল’-এর (Jewish Council) সহস্রাধিক সদস্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে একটি খোলা চিঠি দিয়ে হার্জোগের আমন্ত্রণ বাতিল করার দাবি জানান। মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের এই সরকারি সফর অস্ট্রেলিয়ার ‘জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের মূল অভিযোগ, হার্জোগ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সামরিক অভিযানে উসকানি দিয়েছেন।

বন্ডি বিচে শ্রদ্ধা ও হার্জোগের বক্তব্য বিক্ষোভের মধ্যেই হার্জোগ তাঁর সফর শুরু করেন সিডনির বিখ্যাত ‘বন্ডি বিচ’ (Bondi Beach) থেকে। সেখানে তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে একটি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১৫ জনের স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিকল্পিত বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হার্জোগ বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ‘বন্ধুত্ব ও শুভকামনার বার্তা’ নিয়ে এসেছেন। তাঁর মতে, যারা এই বিক্ষোভ করছে তারা মূলত ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পরিপন্থী।

কূটনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই সফরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি মনে করেন, বন্ডি এলাকায় হামলার ঘটনার পর এই ‘স্টেট ভিজিট’ (State Visit) অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক ঐক্য এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একতার অনুভূতি জোরদার করতে সাহায্য করবে। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, গাজা ও লেবানন ইস্যুতে যখন গোটা বিশ্ব উত্তাল, তখন এই সফর অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘পোলারাইজেশন’ বা বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে হার্জোগের নিরাপত্তায় কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। সিডনির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট’ (High Security Alert) জারি রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত গাজায় মানবিক বিপর্যয় (Humanitarian Crisis) ও হামলা বন্ধ না হবে, ততদিন তাঁদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Tags: security alert human rights isaac herzog international relations australia protest sydney clashes palestine solidarity isaac herzog visit