ইরানের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লব দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ মানবিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ বছর বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২ হাজার ১০৮ জন কারাবন্দিকে ক্ষমা করেছেন অথবা তাদের সাজার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এই ক্ষমার তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ের সরকারবিরোধী প্রতিবাদে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিচার বিভাগের সুপারিশে বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ইরানের বিচার বিভাগের প্রধানের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই সাজা মওকুফ ও পরিবর্তনের অনুমোদন দেন। ইরানে সাধারণত ইসলামি ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সর্বোচ্চ নেতা এই ধরনের সাধারণ ক্ষমার (General Amnesty) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এবারের পদক্ষেপে ২ হাজারের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারামুক্ত হওয়ার বা তাদের দণ্ড হ্রাসের (Sentence Reduction) সুযোগ পাচ্ছেন।
শক্তির মহড়া ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের নজর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর বিভিন্ন সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশজুড়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বিপ্লব দিবস। এই উদযাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটিকে তেহরানের পক্ষ থেকে এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লব দিবস উপলক্ষে ইরানের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহরে বিশাল গণমিছিল ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজন বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে উপস্থিত থাকবেন দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ সাংবাদিক। যার মধ্যে দুই শতাধিক বিদেশি সংবাদকর্মী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা সরাসরি সম্প্রচার (Live Broadcast) করবে। তালিকায় আল জাজিরা, সিবিএস নিউজ, আরটি নিউজ এবং সিনহুয়াসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সব গণমাধ্যমের নাম রয়েছে।
সামরিক শক্তির প্রদর্শনী ও ‘২২ বাহমান’ ইসলামিক প্রোপ্যাগেশন কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের উপ-প্রধান কামাল খোদাদাদেহ জানিয়েছেন, এবারের শোভাযাত্রার রুটগুলোতে ইরানের অ্যারোস্পেস সেক্টর (Aerospace Sector) এবং বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও অর্জনগুলো প্রদর্শন করবে। এর মধ্যে বেশ কিছু অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উন্মোচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ‘২২ বাহমান’ (ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিপ্লবের দিন) উপলক্ষে এই মহড়া শত্রু পক্ষকে ইরানের সামরিক সামর্থ্যের জানান দেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: পাহলভি শাসনের পতন ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পাহলভি শাসনের পতন ঘটে। সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের স্মৃতি স্মরণ করতেই প্রতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে উৎসব পালিত হয়। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ইমাম খোমেনির প্রত্যাবর্তন এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শাহ সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের মাধ্যমেই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল এই ইসলামি বিপ্লব।
এ বছর বিপ্লব দিবস উদযাপনের সময় গত বছরের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ সংহতির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খোদাদাদেহর মতে, বহিঃশত্রু বিভাজন তৈরি করতে চাইলেও এই দিবসটি হবে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন।