এলাকায় উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার বিকালে নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে ২-৩ জন আহত হওয়ার কথা শুনেছেন। এ ঘটনায় কোনও পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহতরা হলেন- বগুড়ার নন্দীগ্রামের থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ও শিবির নেতা জুলাইযোদ্ধা গালিব।
নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাড়িতে টাকা বিতরণের উদ্দেশ্যে গোপন মিটিং করছিলেন। এমন খবর পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেনসহ জামায়াতের দুই নেতাকে টাকাসহ অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন।
তিনি আরও বলেন, এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে অবরুদ্ধ নেতাদের ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাট করে।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, টাকা বিতরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমরা জানতে পারি, আমাদের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। দ্রুত সমাধান না পাওয়ায় আমরা নিজেরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পৌঁছালে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এদিকে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, তাদের কর্মী জুলাইযোদ্ধা গালিব নির্বাচনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হন। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই রাতে পারশন গ্রাম থেকে তাদের নেতা ফারুক ও বেলালকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।