আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর নির্বাচনী মাঠ এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ব্যবস্থা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মাঠে নামানো হয়েছে ৭টি বিভিন্ন বাহিনীর ১৬ হাজার ৩৭৯ জন সদস্যকে। নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: মাঠে ৭ বাহিনী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী, র্যাব (RAB), পুলিশ, বিজিবি (BGB), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন (Deployment) করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংশটি আনসার সদস্যদের—১১ হাজার ৩৭৫ জন। এছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ৬৪ জন কোস্টগার্ড সদস্য এবং ৭০০ জন সেনা সদস্য। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির ২৫০ জন এবং নৌবাহিনীর ২৪০ জন সদস্যও বিশেষ টহলে থাকবেন। পাশাপাশি র্যাবের ১০০ সদস্য সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবেন।
হাতিয়ার জন্য বিশেষ নজর ও নৌ-নিরাপত্তা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই দ্বীপ অঞ্চলে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড (Coast Guard) অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। জলপথে ভোটারদের যাতায়াত এবং ব্যালট পেপার পরিবহনে লজিস্টিক (Logistics) সাপোর্ট দেবে এই দুই বাহিনী। এছাড়া অন্য পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ও ভোট সরঞ্জাম ভোটগ্রহণের যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষ এক জনবল। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে কাজ করবেন ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ১৪ জন প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate)। মাঠ পর্যায়ে ভোটগ্রহণের জন্য ৮৭৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ৬০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১১ হাজার ২১৮ জন পোলিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নয়টি উপজেলার সব কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভোটের সমীকরণ: প্রার্থী ও ভোটার সংখ্যা জেলায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ জন এবং নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ২৪৫ জন। উল্লেখ্য, এবার তৃতীয় লিঙ্গের (Third Gender) ১৪ জন ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মোট ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নোয়াখালী-৫ আসনে, যেখানে ১২ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। এছাড়া নোয়াখালী-৬ আসনে ১০ জন এবং বাকি চারটি আসনে গড়ে ৫ থেকে ৭ জন করে প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন।