টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নবাগত বা তথাকথিত ছোট দলগুলোর বিপক্ষে বড় দলগুলোর আধিপত্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিউজিল্যান্ড মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে যা উপহার দিল, তাকে কেবল জয় বললে ভুল হবে; এটি ছিল স্রেফ ধ্বংসযজ্ঞ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) দেওয়া লড়াকু লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে ১০ উইকেটের বিশাল জয় তো বটেই, সেই সঙ্গে বিশ্বরেকর্ডের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করে নিলেন দুই কিউই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন।
ভেঙে গেল বাটলার-হেলসদের রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের এই জয়ের দিনে ক্রিকেটের পরিসংখ্যানবিদদের কাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন সেইফার্ট ও অ্যালেন। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তাঁরা দুজনে গড়েন ১৭৫ রানের অপরাজিত 'ওপেনিং স্ট্যান্ড' (Opening Stand)। এটি এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ২০২২ আসরে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জশ বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস ১৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন। আজ চেন্নাইয়ের মন্থর উইকেটেও সেই রেকর্ডকে অতীত বানিয়ে দিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই 'পাওয়ার হিটার' (Power-hitter)।
সেইফার্ট-অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। বিশেষ করে টিম সেইফার্টের ব্যাট থেকে যেন আগ্নেয়গিরির লাভা ঝরছিল। মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি হাঁকান ১২টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কা। অন্যদিকে ফিন অ্যালেন কিছুটা সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। ৫০ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি, যেখানে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কার মার ছিল। কিউইদের 'স্ট্রাইক রেট' (Strike Rate) এবং গ্যাপ খোঁজার দক্ষতা আরব আমিরাতের বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দেয়। ২৮ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।
আমিরাতের লড়াকু পুঁজি যখন ম্লান টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে সংযুক্ত আরব আমিরাত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছিল, যা যেকোনো বিচারে নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা ছিল। অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম ৪৫ বলে ৬৬ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন আলিশান শারাফু (৫৫)। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ১০৭ রানের পার্টনারশিপ আমিরাতকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। শেষ দিকে মায়াঙ্ক কুমারের ১৩ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসটিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিউই বোলারদের মধ্যে ম্যাট হ্যানরি ৩৭ রান খরচায় ২ উইকেট নিলেও বাকিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে কিউই ব্যাটাররা মাঠে নামার পর আমিরাতের সব অর্জন নিমিষেই ম্লান হয়ে যায়। তাদের বোলাররা কোনো পর্যায়েই কিউই ওপেনারদের চাপে ফেলতে পারেননি।
সুপার এইটের পথে নিউজিল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে 'ডি' গ্রুপের (Group D) একক শীর্ষে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের ফলে তাদের নেট রান রেট (Net Run Rate) এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে, 'সুপার এইট' (Super Eight)-এ তাদের জায়গা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে, হার দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করায় আমিরাতের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ।
চেন্নাইয়ের দর্শক আজ কেবল নিউজিল্যান্ডের জয় দেখেনি, দেখেছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আধুনিক ব্যাটিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী। কিউইদের এই রুদ্রমূর্তি আসন্ন বড় ম্যাচগুলোর আগে অন্যান্য পরাশক্তিদের জন্য নিশ্চিতভাবেই এক সতর্কবার্তা।