• খেলা
  • নিজে গোল না পেলে দল জিতলেও খুশি হতেন না মেসি’: বার্সা সতীর্থ উমতিতির বয়ানে এলএম১০-এর অদম্য মানসিকতা

নিজে গোল না পেলে দল জিতলেও খুশি হতেন না মেসি’: বার্সা সতীর্থ উমতিতির বয়ানে এলএম১০-এর অদম্য মানসিকতা

খেলা ১ মিনিট পড়া
নিজে গোল না পেলে দল জিতলেও খুশি হতেন না মেসি’: বার্সা সতীর্থ উমতিতির বয়ানে এলএম১০-এর অদম্য মানসিকতা

জয়ের নেশা নাকি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের তাড়না? বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে কাটানো দিনগুলো থেকে মেসির অনন্য এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কথা শোনালেন ফরাসি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি।

লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের এমন এক নাম, যার অর্জনের ঝুলি পূর্ণ সম্ভাব্য সব সম্মাননায়। কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে রহস্য কী? কেবল কি ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা, নাকি এক অদ্ভুত অদম্য মানসিকতা? বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ এবং ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি সম্প্রতি আলোকপাত করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই অপ্রকাশিত রূপের ওপর। উমতিতির দাবি, দলের বড় জয়ও মেসির কাছে পূর্ণতা পেত না যদি না সেখানে তার নিজের নামের পাশে গোল থাকত।

৪-০ গোলের জয়ও যখন অপূর্ণ ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ন্যু ক্যাম্পে মেসির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন উমতিতি। সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘দ্য এলিভেট হাউস’ (The Elevate House) পডকাস্টে উমতিতি বলেন, “লিওনেল মেসি একজন জাত ম্যাচ উইনার (Match Winner)। তার জয়ের ক্ষুধা সাধারণের কল্পনার বাইরে। আমরা যদি কোনো ম্যাচ ৪-০ ব্যবধানে জিততাম, কিন্তু লিও নিজে গোল না পেত, তবে তার মধ্যে কোনো উল্লাস দেখা যেত না। সে শান্ত ও মনমরা হয়ে থাকত।”

উমতিতির মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা নয়, বরং একজন ‘এলিট’ অ্যাথলেটের নিখুঁত হওয়ার তাড়না। তিনি মনে করেন, এই মানসিকতাই মেসিকে প্রতি ম্যাচে গোল করতে এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করত। উল্লেখ্য, উমতিতির সঙ্গে কাটানো ওই পাঁচ মৌসুমে মেসি প্রতিবারই ৩০-এর বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন।

মাঠের ভেতরে সময়ের জাদুকর মেসির খেলার ধরন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার। উমতিতির ভাষায়, “গোলের সামনে সে ছিল এক প্রকৃত ঘাতক বা ‘কিলার’ (Killer)। সে জানত কখন গতি বাড়াতে হবে আর কখন খেলা ধীর করতে হবে। অদ্ভুত বিষয় হলো, মাঠে যখন সবাই বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, লিওর কাছে মনে হতো সময়টা একটু বেশিই থাকত। সে ডানে-বামে তাকিয়ে সতীর্থদের অবস্থান বুঝে নিয়ে এমন সব পাস দিত বা শট নিত যা ছিল একেবারেই আনপ্রেডিক্টেবল (Unpredictable)।”

জেরার্ড পিকে ও বার্সেলোনার পেশাদারিত্ব মেসির পাশাপাশি উমতিতি কথা বলেছেন বার্সার রক্ষণভাগের স্তম্ভ জেরার্ড পিকে-কে নিয়েও। পিকের ফুটবলীয় মেধার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পিকে হয়তো শারীরিকভাবে সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড় ছিল না, কিন্তু তার গেম সেন্স (Game Sense) ছিল অসাধারণ। মজার ব্যাপার হলো, দল ৩-০ বা ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও পিকে রক্ষণ ছেড়ে ওপরে উঠে নিজের গোলটা করতে চাইত।”

সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার ক্লাব কাঠামোর ‘এলিট প্রফেশনালিজম’ (Professionalism) নিয়েও কথা বলেন উমতিতি। তিনি জানান, বার্সায় একজন ফুটবলারের একমাত্র কাজ ছিল ফুটবল খেলা। মাঠের বাইরের সব প্রশাসনিক ও লজিস্টিক দিকগুলো ক্লাব নিখুঁতভাবে সামলাত। এই পরিবেশ একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে চাপমুক্ত রেখে সেরা পারফরম্যান্স দিতে সহায়তা করত।

মেসির এই অদম্য মানসিকতা আর বার্সেলোনার সেই সোনালী সময়ের গল্প উমতিতির জবানিতে আবারও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্পষ্ট হয়েছে যে, কেন লিওনেল মেসিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বা ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ (Greatest of All Time) বলা হয়।

Tags: la liga football news lionel messi fc barcelona match winner soccer updates goal machine gerard pique samuel umtiti football mentality