বিশ্ব ক্রিকেটের সবথেকে বড় বিজ্ঞাপন 'ভারত-পাকিস্তান' মহারণ নিয়ে গত কয়েকদিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান ঘটল। নানা জল্পনা-কল্পনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। আইসিসি (ICC), পিসিবি (PCB) এবং বিসিবি (BCB)—এই তিন পক্ষের ম্যারাথন বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত আসতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ক্রিকেট বিশ্ব। আর পাকিস্তানের এই প্রত্যাশিত ‘ইউটার্ন’ (U-turn) নিয়ে স্বভাবজাত ভঙ্গিতে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রখ্যাত ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া।
আর্থিক ক্ষতি ও আইসিসির কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ‘বয়কট’ (Boycott) করার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। এই ঘোষণায় রীতিমতো লণ্ডভণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়েছিল আইসিসির বাণিজ্যিক সমীকরণ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে ব্রডকাস্টিং রাইটস এবং বিজ্ঞাপন বাবদ আইসিসি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ত। এই বিশাল ‘রেভিনিউ’ (Revenue) হারানোর ভয়েই মূলত বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে সমঝোতায় বসতে বাধ্য হয় বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সোমবারের বৈঠকে দুই বোর্ড আইসিসিকে কিছু কঠোর শর্ত দিলে শেষ পর্যন্ত তা মেনে নেওয়া হয়, যার ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াচ্ছে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ।
আকাশ চোপড়ার কটাক্ষ: ‘সম্মান রক্ষাই যদি লক্ষ্য হয়...’ পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের খবরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে (YouTube Channel) একটি ভিডিও বার্তায় খোলামেলা কথা বলেছেন আকাশ চোপড়া। পাকিস্তানের এই ভোলবদলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ইউটার্ন মেরেই দিল। তারা বারবার সম্মানের কথা বলছিল, কিন্তু সেই সম্মানের সংজ্ঞা ঠিক কী, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”
তিনি প্রবীণ সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তার একটি আগের মন্তব্যের সূত্র টেনে বলেন, “বিক্রান্ত ঠিকই বলেছিলেন যে, পাকিস্তান এশিয়া কাপের মতো এসব নাটক করে শেষ পর্যন্ত ঠিকই খেলবে। অনেক নাটকীয়তার পর ১৫ তারিখের ম্যাচে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত নামছেই।” আকাশ চোপড়া আরও যোগ করেন, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্রিকেটীয় ‘ইকোসিস্টেম’ (Ecosystem) ঠিক রাখার আহ্বানের পরই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ ও আইসিসি সংঘাত পুরো ঘটনার সূত্রপাত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল (IPL) থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ‘অবিচারের’ প্রতিবাদে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। এমনকি সংহতি জানিয়ে তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না বলে হুমকিও দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর আইসিসি কিছু শর্ত মেনে নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন ‘উইন-উইন’ (Win-win) অবস্থানে পৌঁছেছে।
মাঠের লড়াই ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ক্রিকেট মহলের মতে, শেষ পর্যন্ত পেশাদারিত্বের জয় হয়েছে। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন এবং কয়েকশ কোটি মানুষের আবেগ। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা আবারও একটি ক্ল্যাসিক লড়াই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই টানটান উত্তেজনার প্রভাব ১৫ ফেব্রুয়ারির ২২ গজে কতটা প্রতিফলিত হয়।