সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবুজ গালিচায় পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছিলেন না, তাই ফর্ম ধরে রাখতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফ্রান্সে। অলিম্পিক লিওঁতে (Lyon) যোগ দিয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক। তবে লঁয়ে তার সময়টা কতদিন? ফুটবল পাড়ায় এই গুঞ্জন ডালপালা মেলার আগেই বড় ঘোষণা দিলেন তার এজেন্ট চিয়াগো ফ্রেয়তাস। সাফ জানিয়ে দিলেন, ধারে খেলতে গেলেও এন্দ্রিকের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ কেবল রিয়াল মাদ্রিদেই।
লিওঁতে স্বপ্নের শুরু ও আকস্মিক হোঁচট ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৬ মাসের ধারের (Loan) চুক্তিতে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁতে যোগ দেন এন্দ্রিক। সেখানে গিয়েই পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নেন এই সেলেসাও তারকা। ক্লাবটির হয়ে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই করেন পাঁচটি গোল, যার মধ্যে রয়েছে একটি দর্শনীয় হ্যাটট্রিক (Hat-trick)। গোল করানোর ক্ষেত্রেও রেখেছেন অবদান।
তবে সবশেষ ম্যাচটি ছিল মুদ্রার উল্টো পিঠ। লিগ আঁ-তে (Ligue 1) নঁতের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড (Red Card) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। মাঠের পারফরম্যান্সে কোচ ও সতীর্থদের প্রশংসা কুড়ালেও এই বহিষ্কারাদেশ তার ছন্দপতনের কারণ হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এজেন্টের সাফ কথা: গন্তব্য সেই বার্নাব্যু লিওঁতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এন্দ্রিকের পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি ‘উইন উইন চ্যানেল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার এজেন্ট ফ্রেয়তাস বলেন, “এন্দ্রিক কেবল ৬ মাসের ধারের চুক্তিতে লিওঁতে যোগ দিয়েছে। এর পরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে; এন্দ্রিক রিয়াল মাদ্রিদেই ফিরবে। এ বিষয়ে কোনোরকম অনিশ্চয়তা বা লুকোচুরি নেই। চুক্তিতে লিওঁ-র জন্য কোনো ‘বাই অপশন’ বা কিনে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পরের মৌসুমে কী হবে, সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে, এই মৌসুম শেষে এন্দ্রিক আবার রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবেই বার্নাব্যুতে পা রাখবে।”
কেন মাদ্রিদে নিয়মিত হতে পারেননি এন্দ্রিক? ২০২২ সালেই পালমেইরাস থেকে এন্দ্রিককে পেতে চুক্তি সেরে রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তিনি স্পেনে পা রাখেন। শুরুতে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (Champions League) অভিষেকে গোল করে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় একাদশে জায়গা পাওয়ার কঠিন লড়াই।
কেন এন্দ্রিক পর্যাপ্ত মিনিট পাচ্ছিলেন না, তার ব্যাখ্যায় ফ্রেয়তাস বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান আক্রমণভাগের দিকে তাকালে আপনি দেখবেন বিশ্বের সেরা ১০ জন খেলোয়াড়ের অন্তত ৮ জনই সেখানে আছেন। ফিফা বর্ষসেরা (FIFA Player of the Year) ভিনিসিউস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম এবং রদ্রিগোর মতো তারকাদের ভিড়ে জায়গা করে নেওয়া যেকোনো তরুণের জন্যই কঠিন। তবে এই লড়াইয়ের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করছেন এন্দ্রিক।”
আপাতত লিওঁ-র জার্সিতে ফ্রান্সে নিজের গোলস্কোরিং দক্ষতা ঝালিয়ে নিয়ে আগামী মৌসুমে মাদ্রিদের ‘স্টার স্টাডেড’ অ্যাটাকিং লাইনে নিজের জায়গা পাকা করাই এখন এন্দ্রিকের মূল লক্ষ্য।