বিনোদনের রঙিন দুনিয়ায় এখন সবথেকে বড় ‘টক অব দ্য টাউন’ (Talk of the Town) অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর এবং দক্ষিণি সুপারস্টার ধানুশের সম্ভাব্য রসায়ন। টিনসেল টাউনের অলিতে-গলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর খবর—আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-তেই নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এই দুই তারকা। ধানুশ ও ম্রুণালের এই হাই-প্রোফাইল বিয়ের গুঞ্জনে যখন নেটপাড়া উত্তাল, ঠিক তখনই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ম্রুণাল।
বিয়ের গুঞ্জনের সূত্রপাত ও ধানুশ-ম্রুণাল রসায়ন গত বছর আগস্ট মাসে ম্রুণাল ঠাকুরের ‘সন অব সর্দার টু’ সিনেমার প্রিমিয়ারে ধানুশের আকস্মিক উপস্থিতি থেকেই এই প্রেমের গল্পের সূত্রপাত। দীর্ঘ এক বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বার্থডে পার্টি এবং সিনেমার বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে তাঁদের একত্রে উপস্থিতি জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। অনুরাগী থেকে শুরু করে মিডিয়া মহল—সবারই ধারণা, পেশাদার সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা এখন ব্যক্তিগত জীবনেও একে অপরের ‘পারফেক্ট ম্যাচ’। যদিও বিয়ের বিষয়ে এই দুই টেক-স্যাভি (Tech-savvy) তারকা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
প্রাক্তন প্রেমিক ও রক্ষণশীল মানসিকতার সংঘাত বিয়ের এই গুঞ্জনের আবহেই ম্রুণাল ঠাকুর তাঁর অতীত জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করেছেন। ‘সীতা রামাম’ ছবির সাফল্যের পর ম্রুণাল এখন গ্লোবাল আইকন, কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও মসৃণ ছিল না। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেরিয়ারের সেই ‘স্ট্রাগলিং পিরিয়ড’-এ তাঁর এক প্রেমিক ছিল, যার পরিবার ছিল অত্যন্ত ‘কনজারভেটিভ’ বা রক্ষণশীল।
ম্রুণালের পেশা হিসেবে ‘অ্যাক্টিং’ বা অভিনয়কে বেছে নেওয়া এবং গ্ল্যামার দুনিয়ার অনিয়মিত ‘লাইফস্টাইল’ মেনে নিতে পারেননি সেই ব্যক্তি। অভিনেত্রী বলেন, “সে ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আমাকে সরাসরি বলেছিল, আমার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত আর ব্যস্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে সে তাল রাখতে পারবে না।”
বিচ্ছেদ যখন ‘আশীর্বাদ’ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া সাধারণত কষ্টের হলেও ম্রুণাল একে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাঁর মতে, সেই সময় বিচ্ছেদ না হলে ভবিষ্যতে হয়তো আরও বড় কোনো বিপর্যয় আসত। অভিনেত্রী যোগ করেন, “এখন মনে হয় সেই বিচ্ছেদ ছিল আমার জীবনের জন্য একটি আশীর্বাদ (Blessing)। চিন্তাভাবনার এই বিশাল ফারাক থাকলে ভবিষ্যতে সন্তান লালন-পালন বা সংসার চালানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ‘কমিটমেন্ট’ ইস্যু তৈরি হতে পারত।” ম্রুণালের এই স্পষ্টবাদিতা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর ‘ফ্যান বেস’ (Fan base)-কে আরও শক্তিশালী করেছে।
বর্তমান ব্যস্ততা ও আগামী প্রজেক্ট ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন পেছনে ফেলে ম্রুণাল এখন তাঁর পেশাদার জীবনে তুঙ্গে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গে ‘দো দিওয়ানে শেহের মে’ সিনেমার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। সিনেমাটির ট্রেলার এবং গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কেরিয়ারের এই স্বর্ণালি সময়ে ধানুশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পরিণতি কী হয়, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছে গোটা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সত্যি কি কোনো বড় ঘোষণা আসতে চলেছে? নাকি ম্রুণাল-ধানুশের এই রসায়ন কেবলই বন্ধুত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ? উত্তর জানতে হলে আর মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে ভক্তদের।