• জীবনযাপন
  • মৌসুম বদলের হাওয়ায় বাড়ছে এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই ৫ অব্যর্থ দাওয়াই

মৌসুম বদলের হাওয়ায় বাড়ছে এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই ৫ অব্যর্থ দাওয়াই

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
মৌসুম বদলের হাওয়ায় বাড়ছে এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই ৫ অব্যর্থ দাওয়াই

শীতের আমেজে বাতাসে ভাসছে ধুলোবালি ও জীবাণু; সামান্য অসাবধানতায় বাড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা—জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের খেলা শুরু হয়েছে। হালকা শীতের পরশ আর ভোরের কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। তবে এই আনন্দদায়ক আবহাওয়ার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এলার্জি (Allergy) ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাতাসে ধুলোবালি, ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া (Bacteria) এবং ভাইরাসের (Virus) উপস্থিতি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে মারাত্মক শ্বাসকষ্টের কবলে পড়ছেন অনেকেই। বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এলার্জির উপসর্গগুলো কী কী? মৌসুমী এলার্জির লক্ষণগুলো খুব দ্রুত প্রকট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ঘন ঘন হাঁচি, গলা খুসখুস করা, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, কানে অস্বস্তি এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা। অনেকের ক্ষেত্রে নাক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া (Nasal Congestion) এবং ত্বকে চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দেয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি জ্বরেও রূপ নিতে পারে।

এলার্জির এই ভয়াবহ প্রকোপ থেকে বাঁচতে এবং সুস্থ থাকতে নিচের ৫টি কার্যকর নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

১. শীতের পোশাকে রোদ লাগানো বাধ্যতামূলক দীর্ঘদিন আলমারিতে বন্দি থাকা সোয়েটার, চাদর বা কম্বলে সূক্ষ্ম ধুলিকণা এবং ‘ডাস্ট মাইটস’ (Dust Mites) বাসা বাঁধে। ব্যবহারের আগে এই পোশাকগুলো কড়া রোদে অন্তত কয়েক ঘণ্টা শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রোদের অতিবেগুনি রশ্মি কাপড়ের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে, যা এলার্জিপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য এক অন্যতম সুরক্ষা কবচ।

২. ঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সঠিক ভেন্টিলেশন বন্ধ ঘরে আবদ্ধ বাতাসে এলার্জেন (Allergens) জমে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ঘরের জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা প্রোপার ভেন্টিলেশন (Ventilation) নিশ্চিত করুন। ঘরের কার্পেট, পর্দা কিংবা পোষা প্রাণীর লোম থেকেও এলার্জি ছড়াতে পারে, তাই নিয়মিত এগুলো পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

৩. পোকামাকড় ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করুন রান্নাঘর বা বাথরুমের পাইপে লিক থাকলে সেখান থেকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়, যা ছত্রাক বা ‘মোল্ড’ (Mold) তৈরির প্রধান কারণ। এছাড়া তেলাপোকা বা অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব এলার্জির সমস্যাকে আরও উসকে দেয়। তাই দ্রুত ঘরের ড্যামেজ বা লিক মেরামত করুন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

৪. ধুলোমুক্ত শয়নকক্ষ নিশ্চিত করা আমরা দিনের একটি দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটাই। তাই বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং লেপ-তোশক নিয়মিত পরিবর্তন ও পরিষ্কার করা উচিত। ঘরের প্রতিটি কোণ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন যেন ধুলো বাতাসে উড়তে না পারে। ধুলোমুক্ত পরিবেশই এলার্জি প্রতিরোধের প্রধান শর্ত।

৫. বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ (Air Pollution) এলার্জির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাটের ধুলোবালি এবং ধোঁয়া সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে প্রদাহ সৃষ্টি করে। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক (Mask) ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে কেবল এলার্জি নয়, বরং বাতাসে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন ড্রপলেট ইনফেকশন থেকেও সুরক্ষা দেবে।

পরিশেষ: মৌসুমী এলার্জি অবহেলার বিষয় নয়। ঘরোয়া সতর্কতা অবলম্বনের পরেও যদি সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন (Antihistamine) বা প্রয়োজনীয় ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই পারে আপনাকে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টিতে সুরক্ষিত রাখতে।

Tags: winter health seasonal change medical advice hygiene tips allergy tips dust allergy health remedies respiratory health skin allergy pollution safety