আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার নতুন মোড় নিয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার একদিন পরেই তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
আদালতের কার্যক্রম ও শুনানি সোমবার চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তিনি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশটির ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দেন। এর আগে গত রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রিট ও আইনি প্রেক্ষাপট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল গত ২০ জানুয়ারি রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করেছিলেন। এর আগে ৫ জানুয়ারি তিনি এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় তিনি জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করেন।
রিটকারীর যুক্তি রিট আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকেই রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি দীর্ঘকালীন প্রথা ও নীতি। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রচলিত প্রথা ও রীতিও আইনের অংশ। তাই রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি চেম্বার আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আর কোনো বাধা রইল না। তবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পরবর্তী শুনানি হতে পারে কি না, তা নিয়ে আইনজীবীরা কাজ করছেন।