তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখা যেতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ডেস্কে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তাকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও সে সময় শপথ গ্রহণ করেননি। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকতা ও কর্মজীবন রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সক্রিয় হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল একজন কৃতি শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা ছাড়াও তিনি পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও তিনি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হন।
ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্ব মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
আগামীর চ্যালেঞ্জ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সংস্কারে তাকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে পল্লী উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে তার প্রধান লক্ষ্য।