• রাজনীতি
  • শিক্ষা খাতের ‘হেলিকপ্টার হিরো’র প্রত্যাবর্তন? নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এহসানুল হক মিলনের নাম তুঙ্গে

শিক্ষা খাতের ‘হেলিকপ্টার হিরো’র প্রত্যাবর্তন? নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এহসানুল হক মিলনের নাম তুঙ্গে

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
শিক্ষা খাতের ‘হেলিকপ্টার হিরো’র প্রত্যাবর্তন? নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এহসানুল হক মিলনের নাম তুঙ্গে

২০০১ সালের সেই ‘নকলমুক্ত’ পরীক্ষার কারিগর এবং দক্ষ প্রশাসক আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে আগামীর শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা; মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ।

বাংলাদেশের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে টেনে তুলতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তনে যার নাম অবধারিতভাবে সামনে আসে, তিনি সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বে তাঁর ফেরার জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী—সবার মাঝেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই চেনা মুখ, যিনি একসময় শিক্ষা খাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য বড় চমক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি যখন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তখন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও (Portfolio) নিয়ে চলছে বিচার-বিশ্লেষণ। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর এবং জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তিনি শপথ গ্রহণের ডাক পেয়েছেন বলে জানা গেছে, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে এক ধরনের স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।

ফিরে দেখা: হেলিকপ্টার অভিযান ও ‘নকলমুক্ত’ বিপ্লব ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর থেকে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় জায়গা পান মিলন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি দেশের ‘Public Examination’ বা জনপরীক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তখনকার দিনে পরীক্ষায় গণনকলের যে মহোৎসব চলত, তা রুখতে তিনি প্রটোকল ছাড়াই হেলিকপ্টারে চড়ে আকস্মিক অভিযানে নামতেন। এক বোর্ড থেকে অন্য বোর্ডে তাঁর এই অতর্কিত পরিদর্শনের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং ‘নকলমুক্ত’ শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন এক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর এই ‘Administrative Reform’ বা প্রশাসনিক সংস্কার আজও দেশের শিক্ষা খাতের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

আধুনিক কারিকুলাম ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে নতুন ‘Curriculum’ বা শিক্ষাক্রম নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে একজন অভিজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন। এহসানুল হক মিলনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা খাতের গভীর জ্ঞান তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য করে তুলেছে। প্রযুক্তি-নির্ভর (Tech-based) শিক্ষা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালা প্রণয়ন এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে তিনি বিশেষ অবদান রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা বিগত কয়েক বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা শিক্ষা খাতের ভাবমূর্তিকে ম্লান করেছে। মিলনের মতো একজন ‘Action-oriented’ নেতার হাত ধরে শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতির বলয় ভেঙে পড়বে এবং ‘Skill-based Education’ বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রসারের পথ সুগম হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষানীতি সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো পুনরায় কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামীর পথচলা শিক্ষা খাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সম্ভাব্য নিয়োগ হবে একটি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি যদি পুনরায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তবে দেশের শিক্ষা মানচিত্র যে নতুন এক গতির দেখা পাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা, যা দেশের শিক্ষা ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।