• জীবনযাপন
  • থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় জাদুকরী ৪ খাবার: সুস্থ থাকার আধুনিক ডায়েট গাইড

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় জাদুকরী ৪ খাবার: সুস্থ থাকার আধুনিক ডায়েট গাইড

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
 থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় জাদুকরী ৪ খাবার: সুস্থ থাকার আধুনিক ডায়েট গাইড

হাইপো কিংবা হাইপার—থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ডায়েটের ভূমিকা অপরিসীম; ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে পাতে রাখুন এই বিশেষ খাদ্যতালিকা।

থাইরয়েড—শরীরের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি গ্রন্থি হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমাদের শরীরের মেটাবলিজম (Metabolism), শক্তি উৎপাদন এবং সামগ্রিক হরমোনাল ব্যালেন্স (Hormonal Balance) নিয়ন্ত্রণে এই গ্রন্থি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। যদিও কেবল খাবার খেয়ে থাইরয়েড পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়, তবে সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং ওষুধের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

থাইরয়েড মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে— হাইপোথাইরয়েড (শরীরে হরমোনের ঘাটতি) এবং হাইপারথাইরয়েড (শরীরে হরমোনের আধিক্য)। এই দুই ধরনের রোগীদের জন্যই কার্যকরী ৪টি বিশেষ খাবার নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

১. আয়োডিনযুক্ত খাবার: হরমোন উৎপাদনের মূল কারিগর

থাইরয়েড হরমোন তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো আয়োডিন (Iodine)। শরীরে আয়োডিনের অভাব বা ‘Iodine Deficiency’ থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তাই নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ এবং সামুদ্রিক শৈবাল খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, হাইপারথাইরয়েডের রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়োডিন আবার হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়।

২. সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: হরমোন সক্রিয় করার চাবিকাঠি

সেলেনিয়াম (Selenium) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যা থাইরয়েড হরমোনকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং থাইরয়েড টিস্যুকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। ডিম, সামুদ্রিক মাছ, সূর্যমুখীর বীজ এবং কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে। এটি শরীরের অটোইমিউন রেসপন্স নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে, যা থাইরয়েড রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।

৩. জিংক ও আয়রন: বিপাক ক্রিয়ার সহায়ক

শরীরের বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজম সচল রাখতে জিংক (Zinc) এবং আয়রন (Iron) অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে জিংকের অভাব থাকলে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়। এই চাহিদা মেটাতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় গরুর চর্বিহীন মাংস, ডাল, পালং শাক এবং কুমড়ার বীজ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, তাদের থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের বিকল্প নেই।

৪. উচ্চমানের প্রোটিন: পেশি ও কোষের সুরক্ষায়

থাইরয়েড রোগীদের প্রায়ই ক্লান্তি ও পেশির দুর্বলতা অনুভব করতে দেখা যায়। শরীরকে শক্তিশালী রাখতে এবং কোষের পুনর্গঠনে উচ্চমানের প্রোটিন (Protein) অত্যন্ত জরুরি। ডিম, মুরগির বুকের মাংস, টক দই এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল প্রোটিনের চমৎকার উৎস। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে, যা থাইরয়েড ম্যানেজমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সতর্কতা: যা এড়িয়ে চলবেন (বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডে)

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কিছু খাবার পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে ‘গোইট্রোজেনিক’ (Goitrogenic) খাবার যেমন—কাঁচা অবস্থায় বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ব্রকলি থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে। তবে এগুলো রান্না করে খেলে ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত সয়াবিন, অত্যধিক চিনিযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত ‘জাঙ্ক ফুড’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

থাইরয়েড একটি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অবস্থা, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি এই সঠিক ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

Tags: health tips healthy food nutrition guide thyroid diet thyroid symptoms hormone balance metabolism boost iodine rich selenium sources thyroid health.