হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর গ্রামের বাসিন্দা হীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও তার সৃজনশীল কাজ তাকে বারবার খবরের শিরোনামে নিয়ে আসছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সালের হাতে তার তৈরি বিশেষ এই উপহারটি তুলে দেন।
অতীতের সেই আলোচিত উদ্যোগ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে হীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার প্রায় তিন মাসের কঠোর পরিশ্রমে একটি নান্দনিক কাঠের চেয়ার তৈরি করেছিলেন। নৌকা প্রতীক খচিত সেই চেয়ারটি তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উপহারটি গ্রহণের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সেই উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।
কেন এই উপহার? হীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার কেবল শখের বশে নয়, বরং একটি বিশেষ সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। তিনি জানান, তার বসতবাড়ির ওপর দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লাইন চলে গেছে। এতে তার পরিবার প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকিতে থাকে। স্থানীয়ভাবে বহুবার চেষ্টা করেও লাইনটি অপসারণ করতে না পেরে তিনি ভেবেছেন, সংসদ সদস্যের মতো উচ্চপর্যায়ের জনপ্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলে হয়তো এর সমাধান হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া হীরেন্দ্রর এই উপহার নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে আলোচনায় আসার কৌশল হিসেবে দেখলেও, অনেকেই তার শৈল্পিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেছেন। মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা একরাম বলেন, “এমপি এখন সবার প্রতিনিধি। ভালোবাসা থেকে যে কেউ তাকে উপহার দিতে পারেন। আমাদের এমপি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার, আশা করি তিনি সবার সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকবেন।”
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম ইউসুফ খান জানিয়েছেন, গ্রাহক যদি বিধি মোতাবেক লিখিত আবেদন করেন, তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত কাঠের এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজের দাবি তুলে ধরার ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি পুরো মাধবপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।