• আন্তর্জাতিক
  • জেনেভা আলোচনায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: ‘কখনও শক্তি ব্যবহার করতে হয়’, ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত?

জেনেভা আলোচনায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: ‘কখনও শক্তি ব্যবহার করতে হয়’, ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
জেনেভা আলোচনায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: ‘কখনও শক্তি ব্যবহার করতে হয়’, ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত?

তেহরানের নমনীয়তার অভাবে চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো তৃতীয় দফা পারমাণবিক বৈঠক; মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনে চরম অস্থিরতা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে জেনেভায় আয়োজিত তৃতীয় দফার আলোচনাও শেষ পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখেনি। তেহরানের অনমনীয় মনোভাব এবং কাঙ্ক্ষিত ছাড় না দেওয়ার কারণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে প্রচ্ছন্ন সামরিক হুমকি দিয়ে বসেছেন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে সমাধান না মিললে ‘কখনও কখনও শক্তি ব্যবহার’ করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

জেনেভা সংলাপ ও কূটনৈতিক স্থবিরতা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর আশা করা হয়েছিল একটি টেকসই সমঝোতা বা ‘Nuclear Deal’ সম্ভব হবে। তবে আলোচনার টেবিলে তেহরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে পর্যাপ্ত নমনীয়তা প্রদর্শন করেনি বলে দাবি ওয়াশিংটনের। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনার ফলাফল নিয়ে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিয়েছে, ইরান সেগুলো পালনে এখনও গড়িমসি করছে। তারা যদি মনে করে অনির্দিষ্টকাল ধরে আমাদের অপেক্ষা করাবে, তবে তারা ভুল করছে।”

‘শক্তি প্রয়োগের’ হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের রণকৌশল সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়টি উঠে আসে যখন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের পথ উন্মুক্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (সামরিক ব্যবস্থা) নেইনি, তবে ইরান যেভাবে আলোচনা চালাচ্ছে তাতে আমরা হতাশ। আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী (World’s strongest military) রয়েছে—যার ধারের কাছেও কেউ নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি যুদ্ধ বা শক্তির ব্যবহার চাই না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কখনও কখনও আমাদের সেটি করতে বাধ্য করে।” ট্রাম্পের এই ‘Peace through Strength’ বা শক্তির মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে আরও মেঘাচ্ছন্ন করে তুলল।

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ও রেড অ্যালার্ট ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে তেহরানস্থ দূতাবাস থেকে নিজেদের কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইসরাইল ভ্রমণে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এছাড়া চীন, ভারত ও কানাডার মতো শক্তিশালী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানিও তাদের নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইল থেকে তাদের ‘Non-emergency’ কর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে, যা মূলত একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের ‘Pre-emptive measure’ বা আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরাইল কানেকশন ও মার্কো রুবিওর সফর এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সামরিক ‘Coordination’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। যদিও মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও ‘Diplomatic Solution’ বা কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন, তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে রণসজ্জা: প্রস্তুত ইউএস নেভি কেবল কথার লড়াই নয়, বাস্তবেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়েছে পেন্টাগন। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল ‘Aircraft Carrier’ (বিমানবাহী রণতরী), অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে টহল দিচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল আলোচনার টেবিলে নয়, বরং সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ইরানকে এক কঠিন ‘Standoff’-এ ফেলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, ইরান কি নমনীয় হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য দেখবে ২১ শতকের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক সংঘাত?

Tags: middle east donald trump global security diplomatic crisis marco rubio nuclear deal iran conflict uss ford geneva talks military force