দীর্ঘ ১৫-১৬ ঘণ্টা সিয়াম সাধনার পর শরীরে শক্তির মাত্রা বা ‘Energy Level’ অনেকটাই নিচে নেমে আসে। ইফতারে আমরা সাধারণত মুখরোচক ও ভাজাপোড়া খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি, যা সাময়িক তৃপ্তি দিলেও শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের মেন্যুতে একটি সেদ্ধ ডিম রাখা হতে পারে শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্ত। কেন ডিমকে ইফতারের ‘পাওয়ারহাউস’ বলা হয়, দেখে নিন তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
১. ইনস্ট্যান্ট এনার্জি ও ক্লান্তি মুক্তি সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন এবং অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরকে দ্রুত চনমনে করে তোলে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে না বাড়িয়ে স্থিতিশীলভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা ইফতার-পরবর্তী ঝিমুনি কাটাতে সাহায্য করে।
২. পেশির ক্ষয় রোধ ও শক্তিবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের পেশি বা ‘Muscle Tissue’ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ডিমের প্রোটিন পেশির পুনর্গঠন ও ক্ষয়পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যারা রোজার মাসেও শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য ইফতারে সেদ্ধ ডিম অপরিহার্য।
৩. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার ‘সুপার ট্রিক’ ইফতারে ভাজাপোড়া খেলে দ্রুত ক্ষুধা লেগে যায় এবং মানুষ অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলে। ডিমের একটি বিশেষ গুণ হলো এর ‘Satiety Index’ বা পেট ভরিয়ে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি। এটি ধীরে ধীরে হজম হয়, ফলে ইফতারের পর দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
৪. পুষ্টির ঘাটতি পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, ডি এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পুষ্টিগুণগুলো শরীরের ‘Immune System’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এছাড়া ডিমে থাকা সেলেনিয়াম ও জিংক সংক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
৫. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি ডিমে রয়েছে ‘কোলিন’ (Choline) নামক এক অনন্য উপাদান, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ‘Cognitive Function’ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোজার ক্লান্তিজনিত কারণে অনেকের মনোযোগের অভাব দেখা দেয়, যা নিয়মিত ডিম খেলে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: ভাজা নয়, সেদ্ধই সেরা ইফতারে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা জরুরি। তেলের ডুবিয়ে ভাজা ডিম বা অতিরিক্ত মশলাদার ডিমের কারি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। অতিরিক্ত তেল-মশলা ইফতারে বদহজম ও বুক জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারে তেল ছাড়া সেদ্ধ ডিম বা সামান্য অলিভ অয়েলে করা ‘পোচ’ শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।