ফুড ফিউশনের (Food Fusion) যুগে নিত্যনতুন রেসিপির পরীক্ষা-নিরীক্ষা কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে এবার এমন এক সংমিশ্রণ সামনে এসেছে যা দেখে ভোজনরসিকদের পিলে চমকে যাওয়ার দশা। জনপ্রিয় উত্তর ভারতীয় খাবার ‘বাটার চিকেন’ এবং ডেজার্টের চিরচেনা ‘আইসক্রিম’—এই দুই বিপরীত মেরুর স্বাদকে এক করে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর (Content Creator) জুলিয়েট মোরেনো। তাঁর এই অদ্ভুতুড়ে উদ্ভাবন এখন ‘ভাইরাল’ তালিকার শীর্ষে।
নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া: বিবর্তন না কি ‘খুন’?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV) জানিয়েছে, জুলিয়েট মোরেনোর এই আইসক্রিমের রেসিপি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনরা (Netizens) আক্ষরিক অর্থেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। একদল এই উদ্ভাবনী সাহসকে স্বাগত জানালেও, ভোজনরসিকদের একটি বিশাল অংশ একে ‘খাবারের অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন।
ভিডিওটির কমেন্ট সেকশনে ক্ষোভ ঝেড়ে একজন লিখেছেন, “মেয়ে, তোমার সমস্যাটা আসলে কোথায়? এই দুটো খাবার কখনোই একসঙ্গে মেশানো উচিত নয়।” অন্য একজন রসিকতা আর বিরক্তির সংমিশ্রণে লিখেছেন, “আমি এমন কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তুমি আস্ত একটা বাটার চিকেনকে এভাবে ‘মার্ডার’ করলে!”
বাটার চিকেন আইসক্রিম আসলে কী?
যাঁরা রান্না নিয়ে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম মানতে নারাজ, মূলত তাঁদের জন্যই এই রেসিপিটি তৈরি করেছেন জুলিয়েট। এটি সাধারণ কোনো ভ্যানিলা বা চকোলেট আইসক্রিম নয়, বরং এতে বাটার চিকেনের সব মশলাদার স্বাদ বিদ্যমান।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: এই ফিউশন তৈরিতে জুলিয়েট ব্যবহার করেছেন প্রথাগত বাটার চিকেন (মাখন, টমেটো পিউরি, ক্রিম ও ম্যারিনেট করা গ্রিলড মুরগির টুকরো)। এর সঙ্গে আইসক্রিমের টেক্সচার আনতে যোগ করেছেন হেভি ক্রিম (Heavy Cream), কনডেন্সড মিল্ক (Condensed Milk) এবং সামান্য চিনি।
তৈরির প্রক্রিয়া: বিচিত্র এক যাত্রা রেসিপিটি অদ্ভুত হলেও এর তৈরির প্রক্রিয়া বেশ আধুনিক। প্রথমে একটি বড় পাত্রে বাটার চিকেনের সব উপকরণ এবং ক্রিম-চিনি একসঙ্গে নিয়ে একটি হাই-স্পিড ব্লেন্ডারে (Blender) দেওয়া হয়। মিশ্রণটি এমনভাবে ব্লেন্ড করা হয় যেন মুরগির টুকরোগুলো পুরোপুরি মিশে গিয়ে একটি মসৃণ পেস্টে পরিণত হয়। এরপর সেই মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয় সেট হওয়ার জন্য।
পরদিন সেই জমাটবদ্ধ মিশ্রণটি বের করে আইসক্রিম মেকারের (Ice Cream Maker) সাহায্যে তৈরি করা হয় সেই বহুচর্চিত ‘বাটার চিকেন আইসক্রিম’। সবশেষে আইসক্রিম কোনে দুই স্কুপ (Scoop) সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় এই নোনতা-মিষ্টি ও ঝাল স্বাদের অদ্ভুত ডেজার্ট।
খাদ্য প্রেমীদের কাছে এটি একটি দুঃস্বপ্ন হতে পারে, আবার রোমাঞ্চপ্রিয়দের কাছে হতে পারে এক নতুন অভিজ্ঞতার নাম। তবে এটি যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আলোচনার ঝড় তুলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আপনি কি সাহস করবেন এই অদ্ভুত ফিউশন চেখে দেখতে?