আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ব্যাটিং ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টানা দ্বিতীয় ও সামগ্রিকভাবে তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারত গড়েছে রানের হিমালয়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও কিউই বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানের বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করেছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
আহমেদাবাদে ওপেনিং তান্ডব ও অভিষেকের বিধ্বংসী শুরু
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ভারতের দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা কিউই পেসারদের থিতু হওয়ার কোনো সুযোগই দেননি। মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন, ততক্ষণে ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়ে গেছে। পাওয়ার প্লে-তে (Powerplay) ভারতের এই বিধ্বংসী ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনাকে শুরুতেই ভেস্তে দেয়।
স্যামসনের অতিমানবিক ইনিংস ও কিষাণ-দুবের ক্যামিও
অভিষেক ফিরলেও উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রেখে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের শাসন করেছেন সাঞ্জু স্যামসন। ব্যক্তিগত ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক অনবদ্য ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। স্যামসনের ইনিংসে ছিল ৮টি বিশাল ছক্কা, যা গ্যালারির দর্শকদের উন্মাদনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
স্যামসনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইশান কিষাণ। মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের রানকে দুইশোর ওপারে নিয়ে যান তিনি। আর শেষ দিকে শিভম দুবে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়ান কিউইদের জন্য। মাত্র ৮ বলে ২৬ রানের একটি ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ‘ক্যামিও’ (Camio) খেলে ভারতকে ২৫৫ রানের পাহাড়সম চূড়ায় পৌঁছে দেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের সামনে ইতিহাসের কঠিনতম চ্যালেঞ্জ
নিউজিল্যান্ড পুরুষ ক্রিকেট দলের জন্য বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাস। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি ব্ল্যাক-ক্যাপসদের। আজ প্রথম শিরোপা জিততে হলে কিউইদের ২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হবে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে অবিশ্বাস্য এক চ্যালেঞ্জ।
রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে টিম ইন্ডিয়া
ভারত যদি আজ এই পুঁজি রক্ষা করতে পারে, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন বা ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বে তারা। জাসপ্রীত বুমরাহ ও আর্শদীপ সিংদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কিউই ব্যাটাররা কতটুকু প্রতিরোধ গড়তে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আহমেদাবাদের গ্যালারি এখন অপেক্ষা করছে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড ও চূড়ান্ত উল্লাসের।