বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট যজ্ঞের মহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ রোববার (৮ মার্চ) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। মহারণের শুরুতেই টসভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে শিরোপা জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে আগে ব্যাটিং করতে নামছে টিম ইন্ডিয়া।
আহমেদাবাদে টস ফ্যাক্টর ও কৌশল
আহমেদাবাদের পিচ রিপোর্টে রাতের ম্যাচে ‘ডিউ ফ্যাক্টর’ (Dew Factor) বা শিশিরের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত সে কথা মাথায় রেখেই স্যান্টনার ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা কিছুটা সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তবে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, তাঁরা বড় স্কোর গড়ে কিউইদের চাপে ফেলতে প্রস্তুত। স্কোরবোর্ডে ফাইনালে রানের চাপ সবসময়ই এক বড় মনস্তাত্ত্বিক শক্তি।
ইতিহাসের সামনে ভারত ও নিউজিল্যান্ড
ভারতের সামনে আজ এক অনন্য রেকর্ডের হাতছানি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (Defending Champion) হিসেবে এবারই প্রথম কোনো দল টানা দ্বিতীয়বার এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে লড়ছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের বিশ্ব আসরে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার সুবর্ণ সুযোগ। কিউইরা ব্ল্যাক-ক্যাপসদের পরিচিত লড়াকু মানসিকতা নিয়ে আজ ইতিহাস বদলাতে চায়।
একাদশে চমক ও অপরিবর্তিত ভারত
ফাইনালের মতো মেগা ইভেন্টে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের উইনিং কম্বিনেশন (Winning Combination) ভাঙতে নারাজ। ফর্ম নিয়ে খানিকটা সমালোচনা থাকলেও মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর ওপরই ভরসা রেখেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার। সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার আক্রমণাত্মক ওপেনিং জুটির ওপর আজ পাহাড়সম রানের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া গর্জনে মুখর আহমেদাবাদের গ্যালারিতে।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড শিবিরে এসেছে একটি বড় পরিবর্তন। চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার কোলে ম্যাককঞ্চি ফাইনালে খেলতে পারছেন না। তাঁর পরিবর্তে কিউইদের একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পেসার জ্যাকব ডাফিকে। ডাফির গতি ও নিয়ন্ত্রণ ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে কতটুকু পরীক্ষা নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ (Playing XI):
ভারত: সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিভম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, আর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী ও জাসপ্রীত বুমরাহ।
নিউজিল্যান্ড: ফিন অ্যালেন, টিম শেইফার্ট (উইকেটরক্ষক), রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), জেমস নিশাম, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন ও জ্যাকব ডাফি।