• রাজনীতি
  • রাজপথ থেকে কেন হারিয়ে গেলেন জুলাই বিপ্লবের লড়াকু নারীরা? সেই কণ্ঠস্বর ফেরাতে নাহিদ ইসলামের বড় উদ্যোগ

রাজপথ থেকে কেন হারিয়ে গেলেন জুলাই বিপ্লবের লড়াকু নারীরা? সেই কণ্ঠস্বর ফেরাতে নাহিদ ইসলামের বড় উদ্যোগ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাজপথ থেকে কেন হারিয়ে গেলেন জুলাই বিপ্লবের লড়াকু নারীরা? সেই কণ্ঠস্বর ফেরাতে নাহিদ ইসলামের বড় উদ্যোগ

‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাইবার বুলিং ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ; বিপ্লবের নারী যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতে বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা।

২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথ কাঁপানো সেই অকুতোভয় নারী যোদ্ধারা আজ কোথায়? কেন বিপ্লব-পরবর্তী রাজনীতিতে তাদের সক্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেল? আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই মর্মস্পর্শী প্রশ্নগুলো সামনে এনেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ঘোষণা করেছেন, জুলাই বিপ্লবের সেই ‘হারিয়ে যাওয়া’ নারী কণ্ঠস্বরগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করবে নবগঠিত সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তি’।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এনসিপির নারী শাখা ‘জাতীয় নারী শক্তি’র জমকালো আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাইয়ের সেই নারী যোদ্ধারা এখন কোথায়? নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ‘Stakeholder’ ছিল আমাদের নারী সমাজ। কিন্তু আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সেই নারীরা এখন কোথায়? রাজপথে যাদের দৃপ্ত উপস্থিতি আমরা দেখেছি, পরবর্তী রাজনীতিতে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসেবে এই দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।”

তিনি জানান, জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার সময় তারা অনেক নারী কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মাঝে রাষ্ট্র পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাইবার বুলিং ও আত্মহননের করুণ উপাখ্যান নারী রাজনীতিকদের জন্য বর্তমান ডিজিটাল মাধ্যমগুলো কতটা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে, তার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে ‘Cyber Bullying’-এর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের মতামত জোরালো করতে চাইছেন, তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক মেধাবী নারী কর্মী ছাত্র রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।”

এ সময় তিনি এনসিপির একজন নারী কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে এতটাই ‘Mental Trauma’ দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। যদি ঢাকা শহরেই একজন নারী কর্মীকে এমন চাপের মুখে পড়তে হয়, তবে প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ‘Safety’ ও ‘Security’ কতটা নাজুক, তা সহজেই অনুমেয়।”

ক্ষমতার রদবদল ও নারী নিগ্রহের সংস্কৃতি দেশে ‘Power Shifting’ বা ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “নির্বাচন বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা নারীদের ওপর বর্বরতা দেখেছি। এই ‘Culture of Impunity’ বা বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দেয়।” তিনি সরকারকে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম ‘জাতীয় নারী শক্তি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নাম ঘোষণা করেন। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নুসরাত তাবাসসুম।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নারী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত হন যে, কেবল স্লোগানে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে নারীদের জন্য একটি ‘Comfort Zone’ তৈরি করাই হবে এই নতুন সংগঠনের মূল লক্ষ্য।