• রাজনীতি
  • ‘দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে ক্ষমতার চোরাবালিতে পা দিয়েছে বিএনপি’: বিস্ফোরক ব্যারিস্টার ফুয়াদ

‘দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে ক্ষমতার চোরাবালিতে পা দিয়েছে বিএনপি’: বিস্ফোরক ব্যারিস্টার ফুয়াদ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে ক্ষমতার চোরাবালিতে পা দিয়েছে বিএনপি’: বিস্ফোরক ব্যারিস্টার ফুয়াদ

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের অভিযোগে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদকের।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার শপথের দিন থেকেই ‘অন্ধ আচরণ’ শুরু করেছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে এবং দিল্লির আধিপত্যবাদকে মেনে নিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদেরই ভিন্ন এক সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ (CIRDAP) মিলনায়তনে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

‘শপথের নাটক’ ও দিল্লির আধিপত্যবাদ ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা টেনে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার দুই-চার বছর পর থেকে স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি সরকার শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই সেই পথ বেছে নিয়েছে। তারা মূলত একটি ‘Political Drama’ বা নাটকের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দিল্লির আধিপত্যবাদকে (Hegemony) মেনে নিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্যই হলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে কোনো না কোনো ফর্মে পুনর্বাসন করা।”

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সরকার গঠিত হয়, তাকে তার সঠিক মর্যাদা ও আইনি অবস্থানে (Legal Status) রাখা সম্ভব হয়নি। বরং একটি অভ্যুত্থানকে সুপরিকল্পিতভাবে সাংবিধানিক মারপ্যাঁচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ ও ‘আদি পাপ’ সরকারের সাংবিধানিক কাঠামোর সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “একটি সফল গণঅভ্যুত্থানকে ক্যান্টনমেন্ট ও বঙ্গভবন হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের পকেট থেকে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ (Article 106) প্রয়োগের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটিই হচ্ছে এই সরকারের ‘Original Sin’ বা আদি পাপ। এই ১০৬-এর পাপ তারা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, যারা তথাকথিত ৭২-এর সংবিধানের পূজারী, তারা বারবার এই সরকারকে একটি সাধারণ ‘Constitutional Government’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। অথচ এর মধ্যে কোনো সাংবিধানিক চরিত্র (Constitutional Character) ছিল না। কয়েক লাইন শপথ পাঠ করলেই একটি সরকার প্রকৃত গণআকাঙ্ক্ষার সরকার হয়ে যায় না।

পুরস্কার বিতরণে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও বীরদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “বিএনপি সরকার শত শত শহীদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। সম্প্রতি সরকার যে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এবং ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে, তাতে ২০২৪-এর বিপ্লবের কোনো প্রতিফলন (Reflection) নেই। গণঅভ্যুত্থানের কোনো হিরোকে তারা স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। এই দলীয় অকৃতজ্ঞতার জন্য বিএনপিকে ভবিষ্যতে চরম মাসুল দিতে হবে।”

‘চোখের ছানি অপারেশন করুন’: সরকারকে হুঁশিয়ারি বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আপনাদের চোখে ক্ষমতার ছানি পড়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে যমুনা ও মিন্টো রোডের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত এই ছানি ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত এই ছানির অপারেশন (Surgery) করিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন। তা না হলে আপনাদের এই অদূরদর্শী রাজনীতি পুরো বাংলাদেশকে অন্ধত্বের অভিশাপের মধ্যে ফেলে দেবে, যেখান থেকে আমাদের কারোরই নিস্তার নেই।”

আলোচনা সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন এবং দ্রুত সংস্কার ও গণভোটের দাবির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিপ্লব পরবর্তী সরকারের বৈধতা এবং দিল্লির প্রভাব নিয়ে তার সরাসরি অভিযোগ বর্তমান রাজনৈতিক ‘Discourse’-এ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Tags: bangladesh politics july uprising human rights political criticism ab party bnp government barrister fuaid delhi hegemony constitutional crisis article 106 award controversy.