• রাজনীতি
  • রাজপথে হারানো নারী কণ্ঠস্বরের সন্ধানে ‘জাতীয় নারী শক্তি’: নেতৃত্বে মনিরা, মিতু ও নুসরাত

রাজপথে হারানো নারী কণ্ঠস্বরের সন্ধানে ‘জাতীয় নারী শক্তি’: নেতৃত্বে মনিরা, মিতু ও নুসরাত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাজপথে হারানো নারী কণ্ঠস্বরের সন্ধানে ‘জাতীয় নারী শক্তি’: নেতৃত্বে মনিরা, মিতু ও নুসরাত

এনসিপির নারী শাখার আত্মপ্রকাশ; জুলাই বিপ্লবের নারী যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও সাইবার বুলিং রুখতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে আত্মপ্রকাশ করেছে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নারী শাখা ‘জাতীয় নারী শক্তি’। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন এই সাহসী অগ্রযাত্রায় আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের ‘নিখোঁজ’ নারী কণ্ঠস্বরের সন্ধানে অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সেই অকুতোভয় নারীরা এখন কোথায়? নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা ছিল রাজপথে সক্রিয় নারীদের ধরে রাখা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অনলাইনে ভয়াবহ ‘Cyber Bullying’ এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক নারীই রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সেই হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বরগুলোকে খুঁজে বের করা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ ‘Political Space’ তৈরি করা।”

সাইবার বুলিং ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার সংকট আলোচনা সভায় বর্তমান সময়ে নারী রাজনীতিকদের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি একটি করুণ তথ্য শেয়ার করে বলেন, “সাইবার জগতের ‘Toxic’ প্রভাব এবং চারিত্রিক হননের অপচেষ্টা সহ্য করতে না পেরে নির্বাচনের আগে আমাদের এনসিপির একজন নারী কর্মী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

নতুন নেতৃত্বের লক্ষ্য ও ভিশন ‘জাতীয় নারী শক্তি’র নবঘোষিত আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুমের কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে নারীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ধারায় তাদের সম্পৃক্ত করা। বিশেষ করে যারা গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন, তাদের সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক ‘Activism’ বজায় রাখতে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

ফরিদা আখতারের উপস্থিতি ও সংহতি অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীরা বারবার রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করলেও ক্ষমতার কাঠামোয় তাদের অবস্থান সবসময়ই প্রান্তিক থেকেছে। ‘জাতীয় নারী শক্তি’ সেই বৈষম্য ঘোচাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা কেবল দলীয় এজেন্ডা নয়, বরং দেশের প্রতিটি কোণায় নারী নিগ্রহ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াবেন। খুব শীঘ্রই তারা সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন এবং জুলাই আন্দোলনের নারী যোদ্ধাদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবেন।

Tags: jatiya nari shakti ncp women wing