• জাতীয়
  • হাস্যোজ্জ্বল মুখে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘চলেন যুদ্ধে যাই’

হাস্যোজ্জ্বল মুখে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘চলেন যুদ্ধে যাই’

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
হাস্যোজ্জ্বল মুখে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘চলেন যুদ্ধে যাই’

রাষ্ট্র পরিচালনার বিশাল কর্মযজ্ঞকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবেই দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; রবিবারের কর্মব্যস্ত সকালে গুলশানের বাসভবনে এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হলেন কর্মকর্তারা।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের ব্যস্ত সকাল। রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তখন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল আর নিরাপত্তার চিরচেনা ব্যস্ততা। ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এক অভাবনীয় ও চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপস্থিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্দেশ্যে মুচকি হেসে তিনি বলে উঠলেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই।’

প্রধানমন্ত্রী যখন মাত্র তিন শব্দের এই বাক্যটি উচ্চারণ করেন, তখন উপস্থিত সবাই কিছুটা সময়ের জন্য থমকে যান। তবে পরক্ষণেই তার চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী হাসি আর শারীরিক ভাষায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এটি কোনো আক্ষরিক রণহুঙ্কার নয়, বরং দেশ গড়ার কঠিন লড়াই আর রাষ্ট্র পরিচালনার বিশাল ‘Governance’ চ্যালেঞ্জকেই তিনি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

মুহূর্তের বিস্ময় ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সম্পর্কে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চটজলদি মন্তব্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক চাঞ্চল্য তৈরি করে। আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন ‘চলেন যুদ্ধে যাই’ বললেন, তখন ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দ্রুতই সবাই বুঝতে পারেন যে, দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার প্রতিটি দিনই তার কাছে এক একটি সংগ্রামের মতো। তিন শব্দের এই চমকপ্রদ মন্তব্যে আসলে দেশ গঠনের নিরন্তর লড়াইয়ের ছবি ফুটে উঠেছে।”

রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ ও ‘লিডারশিপ’ দর্শন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি হালকা রসিকতার ছলে করা হলেও এর গভীরতা অনেক। রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো সহজ কাজ নয়; বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিটি পদক্ষেপই এক একটি চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ‘Workload’ বা কর্মযজ্ঞকে একটি যুদ্ধের মতো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন বলেই কর্মকর্তাদের এমন কথা বলেছেন। এটি তার ‘Work Ethic’ বা কাজের প্রতি দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।

সকাল থেকেই কর্মব্যস্ততার শুরু প্রেস সচিবের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তার ব্যক্তিগত প্রটোকল ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত ছিল। প্রধানমন্ত্রী যখন বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তিনি উপস্থিত সবার মধ্যে উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতে ওই মন্তব্যটি করেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘War Metaphor’ বা যুদ্ধকালীন রূপক ব্যবহারের বিষয়টি সারাদিনই সচিবালয় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এমন সাবলীল আচরণ কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এক বিশেষ ‘Leadership’ বার্তা প্রদান করে।

Tags: tarique rahman dhaka news work ethic state reform cabinet division gulshan residence bangladesh pm state governance leadership style pm comments.